একদিনেই তোলপাড় যুক্তরাষ্ট্র: সেনাপ্রধানসহ চার শীর্ষ কর্মকর্তাকে হঠাৎ বরখাস্ত

একদিনেই তোলপাড় যুক্তরাষ্ট্র: সেনাপ্রধানসহ চার শীর্ষ কর্মকর্তাকে হঠাৎ বরখাস্ত
বরখাস্ত হওয়া মার্কিন সেনাপ্রধান র‍্যান্ডি জর্জ/ছবিঃ সংগৃহীত

৪ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক সমাচার ডেস্ক : মার্কিন প্রশাসনে অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি টালমাটাল হয়ে উঠেছে। শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের অপসারণের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দেওয়া এক ঘোষণায় বিচার বিভাগ থেকে বন্ডিকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ, যিনি এর আগে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। এই নিয়োগের মাধ্যমে বিচার বিভাগে প্রেসিডেন্টের প্রভাব আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে দুটি প্রধান কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, কুখ্যাত অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের মামলার সংবেদনশীল নথি প্রকাশে ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা। দ্বিতীয়ত, ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বন্ডির তুলনামূলক ধীরগতি। অভিযোগ রয়েছে, প্রেসিডেন্ট দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইলেও বন্ডি প্রচলিত আইনি কাঠামোর বাইরে যেতে অনিচ্ছুক ছিলেন।

এর আগে, মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জকে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় বছর আগেই সরিয়ে দেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে যুদ্ধকালীন সময়ে এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত বিরল। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের মাধ্যমে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অবসর’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

এছাড়া আরও দুই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা—জেনারেল ডেভিড এম. হোডনি এবং মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিন জুনিয়র—কে অপসারণ করা হয়েছে। হোডনি সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও কৌশলগত পরিকল্পনার দায়িত্বে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডে নিয়োজিত ছিলেন। অন্যদিকে, গ্রিন সেনাবাহিনীর প্রধান যাজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পেন্টাগনের শীর্ষ পর্যায়ে এই ধারাবাহিক পরিবর্তন মার্কিন সামরিক কাঠামোয় বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এটি প্রশাসনিক সংস্কার নাকি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অংশ—তা নিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা অপসারণের এই প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও সামরিক নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা এখনও না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।

..

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::