মান্দায় ‘ওসি স্যার দেখা করতে বলেছেন’ বলে ডেকে নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষককে জেলহাজতে প্রেরণ

মান্দায় ‘ওসি স্যার দেখা করতে বলেছেন’ বলে ডেকে নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষককে জেলহাজতে প্রেরণ
মান্দায় জমি বিরোধে শিক্ষক আটক, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী/ছবিঃ নওগাঁ প্রতিনিধি

৪ এপ্রিল ২০২৬

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : নওগাঁর মান্দায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও হাফেজদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত চাঁদাবাজি মামলা দায়েরের পর এক শিক্ষককে নাটকীয়ভাবে আটকের অভিযোগ উঠেছে। ‘

ওসি স্যার দেখা করতে বলেছেন’ এমন কথা বলে ডেকে নিয়ে বিনা ওয়ারেন্টে ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করে শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের ‘ডাকাতের মোড়’ এলাকায় সংঘটিত এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মামলার বাদীর ভাই একজন বিচারক (জজ) হওয়ায় তার প্রভাব খাটিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে এই হয়রানি করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, আলহাজ কছির উদ্দিন চৌধুরী নূরানী হাফিজিয়া কাওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার সহকারী শিক্ষক হাফেজ মেহেদীকে গতকাল শুক্রবার বিকেলে মাদ্রাসা থেকে ডেকে নেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোকাররম।

ওই সময় তাকে বলা হয়, ‘ওসি স্যার আপনার সাথে দেখা করতে বলেছেন’। কিন্তু থানায় যাওয়ার পর তাকে আর ফিরতে দেওয়া হয়নি। কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই জজের টেলিফোনে অতিউৎসাহী হয়ে তাকে আটক করা হয় বলে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, মৈনম মৌজার ৩৯৭ ও ৩৯৮ খতিয়ানে ২৯ শতক জমি ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে ‘হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) বালক-বালিকা নূরানী ও মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসা’ পরিচালনা করে আসছিলেন হাফেজ আল-আমিন হোসেন মোল্লা। জমিটি গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে (দলিল নং ১২৫৬) ক্রয় করা হয়। এই জমির দখল নিতেই প্রতিপক্ষ বেলাল উদ্দিন মন্ডল গংরা গত ৩০ মার্চ থানায় ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি ও মালামাল চুরির অভিযোগে মামলা করেন।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এজাহারে ৩৫ হাজার টাকার সিমেন্টের খুঁটি ভাঙচুর ও ৭০ হাজার টাকার জিআই তার চুরির কথা বলা হলেও বাস্তবে মালামালগুলো ঘটনাস্থলেই পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সদ্য বিদায়ী বিতর্কিত ওসি কেএম মাসুদ রানা মোটা অঙ্কের অর্থ ও প্রভাবের বিনিময়ে কোনো তদন্ত ছাড়াই মামলাটি রেকর্ড করেছিলেন।

বর্তমানে মামলার ৩ নম্বর আসামি প্রবীণ শিক্ষক হাফেজ আবু বক্কর সিদ্দিক গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী। একদিকে তার সন্তানকে গ্রেফতার, অন্যদিকে প্রভাবশালী পক্ষ মাদ্রাসার সামনে জিআই তারের বেড়া দিয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী, মসজিদের মুসল্লি ও পথচারীদের চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বাদীর পক্ষ তাদের প্রাপ্য সম্পত্তি আগেই বিক্রি করলেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাদ্রাসাটি উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে বাদী বেলাল উদ্দিন মন্ডল জমি নিজেদের দাবি করলেও চুরির মালামাল ঘটনাস্থলে পড়ে থাকার বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। মান্দা থানা পুলিশ জানায়, জমি সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা রেকর্ড হয়েছে এবং তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এলাকাবাসী প্রশাসনের নিকট নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই ‘গায়েবি’ চাঁদাবাজি মামলা থেকে নিরপরাধ শিক্ষকদের মুক্তি ও হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন।

..

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::