আবু সুফিয়ান: হামের প্রভাবে শিশুদের রক্ষা করা এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি জনস্বাস্থ্য ইস্যুগুলোর একটি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, এমনকি শিশুমৃত্যুর ঘটনাও জনমনে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাসজনিত রোগটি কেবল শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য নয়, তাদের জীবনের জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও এই রোগের বিস্তার বাড়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। টিকাদানে ঘাটতি, অপুষ্টি, মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। যদিও দেশে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক শিশুকে টিকা দেওয়া হয় এবং জন্মের পর থেকে ১৫ মাস বয়স পর্যন্ত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে একাধিক টিকা প্রদান করা হয়, তবুও টিকার ঘাটতির খবর উদ্বেগজনক।
একই সঙ্গে টিকার মান ও কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। দীর্ঘদিন একই ধরনের টিকা ব্যবহারের ফলে ভাইরাসের ধরনে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ, সময়ের সঙ্গে ভাইরাসের রূপান্তর ঘটলে প্রচলিত টিকা তার কার্যকারিতা হারাতে পারে। এ ক্ষেত্রে গবেষণা জোরদার করা এবং প্রয়োজনীয় হালনাগাদ পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।
সরকার ইতোমধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় নতুন কর্মসূচি গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে টিকা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রচেষ্টা চলছে এবং দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। জুলাই-আগস্ট মাসে একটি বিশেষ ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে। তবে একই সময়ে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টিকার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।
এ বাস্তবতায় কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সচেতনতা ও অংশগ্রহণ। অভিভাবকদের সময়মতো শিশুদের টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহে গুরুত্ব দিতে হবে এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে সচেষ্ট হতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও সক্রিয়, দায়িত্বশীল ও সমন্বিত ভূমিকা পালন অপরিহার্য।
সবচেয়ে বড় কথা, প্রতিরোধই হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা। সময়োপযোগী পরিকল্পনা, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতার সমন্বয়ে এই রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শিশুকে এ ধরনের প্রতিরোধযোগ্য রোগে প্রাণ হারাতে না হয়—এই লক্ষ্য সামনে রেখে এখনই দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
..