ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, “তাদের কথা ও কাজের মধ্যে কোনো মিল নেই। তারা ইসলামী লেবাস ধারণ করলেও প্রকৃত ইসলামের চর্চা তাদের মধ্যে নেই।” জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি এসব কথা বলেন।
গতকাল সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা একা নই, আমাদের সঙ্গে দেশের জনগণ আছে। ২৭৮টি আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।”
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “যারা ইসলামের কথা বলে, তারাই আবার প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে—কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে শরিয়াহ আইন অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে না, বরং প্রচলিত আইনেই রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। অথচ এই প্রচলিত আইনেই দেশে কখনো শান্তি আসেনি।”
তিনি বলেন, “বিগত সরকারগুলোর সময় জেল-জুলুম, অন্যায়-অত্যাচার, দুর্নীতি, অপশাসন ও বিদেশে অর্থ পাচারের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা বন্ধ করতে হলে ইসলামী শাসনব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। শরিয়াহ আইনে রাষ্ট্র পরিচালনা ছাড়া দেশে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”
৯২ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে ইসলামী হুকুমত ছাড়া শান্তি আসবে না উল্লেখ করে তিনি নবীনগরবাসীকে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মুহা. নজরুল ইসলাম নজুকে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার অনুরোধ জানান।
জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহা. নজরুল ইসলাম নজু বলেন, “নবীনগরকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও উন্নত মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নবীনগর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা জসিমউদ্দিন সরকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী মহাসচিব আহম্মদ আব্দুল্লাহ ইউসুফ।
এছাড়াও বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক সরকার, মাওলানা হাবিবুর রহমান মির্জা, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা মেহেদী হাসান, মাওলানা আব্দুল মতিনসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
..