মোঃ আবু কাওছার মিঠু রূপগঞ্জ(নারায়ণগঞ্জ)প্রতিনিধি: ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দৃষ্টিনন্দন রং আর নকশায় তৈরি বাহারি ফার্নিচারের ফ্রি হোম ডেলিভারিতে ক্রেতারা খুশি। প্যাভিলিয়নগুলোতে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। তারা ফার্নিচার দেখার পাশাপাশি মূল্য ছাড়ের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। আবার কেউবা নিজ নিজ এলাকার শোরুমের ঠিকানা নিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউ পছন্দের ফার্নিচারের অর্ডার দিচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এবার মেলায় নাদিয়া ফার্নিচার, জেমজি ফার্নিচার, হাতিল ফার্নিচার, হাতিম ফার্নিচার, আক্তার ফার্নিচার, ব্রাদার্স ফার্নিচার, রিগ্যাল ফার্নিচারসহ বেশ কিছু ফার্নিচারের প্যাভিলিয়ন রয়েছে।
ফার্নিচারের খাটের চারপাশ জুড়ে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন নকশা। তাতে দর্শনার্থীরর আকৃষ্ট হচ্ছে। মেলায় দর্শনার্থীরা ঘুরেফিরে পছন্দের ফার্নিচার দেখছেন। কেউবা ছবি তুলছেন। কেউ দাম দরা-দরি করছেন। কেউবা অর্ডারের আশায় নিজ এলাকার শো-রুমের ঠিকানা নিয়ে যাচ্ছেন।
ঢাকার বনশ্রী থেকে স্বপরিবারে আসা স্কুল শিক্ষিকা আমেনা খাতুন রত্না বলেন, বাণিজ্য মেলায় ফার্নিচারের আকর্ষণীয় ছাড় পেয়ে তিনি একটি খাট ক্রয় করেছেন। ফ্রি হোম ডেলিভারি সার্ভিস পেয়েছেন।
শরিয়তপুর জেলার জাজিরা থেকে আসা শাহ মোঃ নাজমুল হাসান বলেন, বাণিজ্য মেলায় মূল্য ছাড় ও ফ্রি হোম ডেলিভারী সার্ভিসের সুযোগ পেয়ে তিনি ফার্নিচার অর্ডার করেছেন।
ঢাকার উত্তরা থেকে মেয়েকে নিয়ে মেলায় আসেন গৃহবধূ মমতাজ বেগম। তিনি বলেন, প্রত্যেক বছর মেলা থেকে তিনি ফার্নিচারসহ গৃহস্থালি পণ্য ক্রয় করেন। বাণিজ্য মেলার পণ্য গুণগত মান ভালো থাকে এবং মজবুুত ও টেকসই হয়। তাই এবার ডাইনিং টেবিলের অর্ডার দিয়েছেন। ফ্রি হোম ডেলিভারী সার্ভিস পেয়েছেন।
নাদিয়া ফার্নিচারের সিনিয়র কার্যনির্বাহী মেহেদী হাসান বলেন, গতবারের তুলনায় এবার মেলার আয়োজন ভালো। ক্রেতা দর্শনার্থীদের আনাগোনা বেশি। পণ্য বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে মেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতিতে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আগমন বাড়ছে। মেলার শেষ ১০দিন দর্শনার্থীর সংখ্যা আরো বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হাতিল ফার্নিচারের বিক্রয় প্রতিনিধি শাহিনুল ইসলাম শাহিন বলেন, মেলা জমে উঠলেও ফার্নিচার বেচাকেনা হচ্ছে তুলনামূলক কম। তবে মেলার শেষের দিকে প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হতে পরে।
ব্রাদার্স ফার্নিচারের কার্যনির্বাহী নুপুর ইসলাম বলেন, ফার্নিচারের প্যাভিলিয়নগুলোতে খাট, সোফা, ড্রেসিং টেবিল, ডাইনিং টেবিল, আলমিরা, ওয়্যারড্রব, কর্নার শোকেজ, রকিং চেয়ার, টেবিল, টেবিল ল্যাম্প বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সোফা ও খাটের ফোম এবং ম্যাট্রেজের চাহিদাও বেশ।
হাতিম ফার্নিচারের সহকারী ব্যবস্থাপক ওমর ফারুক বলেন, ফার্নিচারের মধ্যে খাট ৩০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা, সোফা ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
আক্তার ফার্নিচারের বিক্রয় প্রতিনিধি দুলাল রায় বলেন, সোফা ও খাটের চাহিদা বেশি। অর্ডার নেওয়া ফার্নিচার কেউ কেউ শোরুম থেকে সংগ্রহ করছেন। এবারের মেলা ব্যবসা সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রিগ্যাল ফার্নিচারের বিক্রয় প্রতিনিধি আবু হুমায়রা বলেন, ফার্নিচারের প্যাভিলিয়নগুলো প্রয়োজনের তুলনায় স্পেস কম। এত কম জায়গায় সব ফার্নিচার দেখানো যায় না।
জেএমজি ফার্নিচারের কার্যনির্বাহী মিন্টু মিয়া বলেন, প্যাভিলিয়নের স্পেস ছোট হওয়ায় হাতে গোনা কয়েক রকমের ফার্নিচার দিয়ে সাজানো হয়েছে। তাই ক্রেতাদের ভার্চুয়ালি ফার্নিচার দেখানো হচ্ছে। ক্রেতারা অর্ডার করছেন।
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ফার্নিচারের প্যাভিলিয়নগুলোতে দেখা গেছে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। ফার্নিচারে ফ্রি হোম ডেলিভারি সার্ভিসে ক্রেতারা খুশি।
ফার্নিচার প্যাভিলিয়নের মালিকরা বলছেন, তাদের তৈরি পণ্য দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে এবং আর্থিক লাভের আশায় মেলায় স্টল দিয়েছেন। লাভ কমবেশি যা-ই হোক প্রচার-প্রচারণাই তাদের মূল লক্ষ্য। এই দিক থেকে বাণিজ্য মেলা সার্থক হয়েছে।