ইসলামী আন্দোলনকে জোটে না রাখতে পারা জামায়াতের বড় ধাক্কা : মাসুদ কামাল

ইসলামী আন্দোলনকে জোটে না রাখতে পারা জামায়াতের বড় ধাক্কা : মাসুদ কামাল

সমাচার ডেস্ক: আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে জোটে রাখতে না পারায় জামায়াতে ইসলামীর ভোট কমে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল। তিনি বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলনের নিজস্ব ভোটভিত্তি আছে এবং দলটিকে পাশে না পাওয়া জামায়াতের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা দেবে।’

সম্প্রতি সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজের ইউটিউব চ্যানেল ‘ভয়েস বাংলা’-তে অংশ নিয়ে মাসুদ কামাল এসব কথা বলেন।

মাসুদ কামাল বলেন, ‘জাতীয় সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকলে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে বেপরোয়া মনোভাব তৈরি হয়। বিরোধী দল দুর্বল হলে সরকার মনে করে, পাঁচ বছরের ম্যান্ডেট পাওয়া গেছে, যা ইচ্ছা তাই করা যাবে, ধরার বা বলার কেউ নেই। এ ধরনের বাস্তবতা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগও সৃষ্টি করে। তাই জনগণ সবসময় এমন বিরোধী দল কামনা করে, যারা সরকারকে চাপের মধ্যে রাখবে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কয়েকবার ভাবতে বাধ্য করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘একসময় মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছিল যে জামায়াত একটি শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হতে পারে। কিন্তু ইসলামী আন্দোলনকে জোটে ধরে রাখতে না পারায় সেই সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

মাসুদ কামাল মনে করেন, ইসলামী আন্দোলনের সমর্থক ভোট উল্লেখযোগ্য—যে যাই বলুক না কেন। ২০১৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সময়কালে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন ধারাবাহিকভাবে অংশ নিলেও জামায়াত দীর্ঘ সময় নির্বাচন মাঠে সক্রিয় ছিল না। ফলে নতুন ভোটারদের একটি অংশ জামায়াতের প্রতীক ‘দাড়িপাল্লা’ সম্পর্কে আগের মতো পরিচিত নয়। বরং ‘হাতপাখা’ প্রতীককে তারা বেশি চিনে। এ কারণে ইসলামী আন্দোলন জামায়াতের জন্য কার্যকর পার্টনার হতে পারত।

তিনি আরো বলেন, ‘জামায়াত হিসেব করে রাজনীতি করে। তারা যে ১৭৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, সেখানে মূল লক্ষ্য থাকবে সম্ভাবনাময় আসনগুলোতে বেশি জোর দেওয়া। যেখানে সম্ভাবনা কম, সেখানে শক্তি কমিয়ে কর্মী-সমর্থকদের সম্ভাবনাময় এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার কৌশলও তাদের থাকতে পারে।’

তিনি মনে করেন, এবার অন্যের ভোটে জেতার সুযোগ কম; প্রার্থীদের নিজেদের ভোট নিজেকেই সংগ্রহ করতে হবে।

আলোচনায় তিনি পোস্টাল ব্যালট প্রসঙ্গেও নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেন। তার মতে, কমিশনের অদক্ষতার কারণে এ বিষয়টি বিতর্ক তৈরি করছে এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আস্থার সংকটও বাড়ছে।

..

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::