৩০ মার্চ ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এখন যুদ্ধের তীব্র উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইর রহস্যময় বার্তা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক শক্তি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বিশ্বকে এক সম্ভাব্য বড় সংঘাতের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
মোজতবার রহস্যময় বার্তা
দীর্ঘদিন ধরেই মোজতবা খামেনেইর অবস্থান ও শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার জীবিত থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি একটি বার্তার মাধ্যমে নিজের উপস্থিতি জানান দেন। ইরাকের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। যদিও তিনি এখনও প্রকাশ্যে আসেননি, তবুও এই বার্তা থেকে স্পষ্ট—ইরানের নেতৃত্ব তার হাতেই এবং সংঘাত থামার কোনো ইঙ্গিত নেই।
‘নরকে স্বাগতম’—তেহরানের হুঁশিয়ারি
ইরানের প্রভাবশালী পত্রিকা তেহরান টাইমস প্রথম পাতায় কড়া বার্তা দিয়েছে—“নরকে স্বাগতম”। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো মার্কিন সেনা ইরানের মাটিতে প্রবেশ করলে তাদের জীবিত ফিরে যাওয়া কঠিন হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি যুদ্ধের হুমকি।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক জোরদার
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ১০ হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছেন। ইতিমধ্যে একটি শক্তিশালী উভচর যুদ্ধজাহাজ বিপুল সেনা ও আধুনিক অস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থান নিয়েছে। একদিকে আলোচনা চলার কথা বলা হলেও, অন্যদিকে এই সামরিক প্রস্তুতি সম্ভাব্য সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংঘাতের বিস্তার ও হুথি হুমকি
সংঘাত এখন আর শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও এতে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তারা ইতিমধ্যে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল বন্ধের হুমকি দিয়েছে—যা বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
উত্তেজনার চরম অবস্থা
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র হার্গ দ্বীপের কাছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানের পাল্টা অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা যেভাবে বাড়ছে, তাতে একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধ এখন আর কল্পনা নয়—বরং ক্রমেই বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে।
সূত্র : ইনকিলাব
..