৩০ মার্চ ২০২৬
সমাচার ডেস্ক : জাতীয় সংসদে জুলাই সনদ প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেছেন, “জুলাই সনদ কোনো আপেল গাছ নয় যে জুনে লাগালে আগস্টেই ফল ধরবে।”
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদের নামে সংবিধান সংস্কার আদেশ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
‘সনদে স্বাক্ষর, কিন্তু সংস্কার আদেশে নয়’
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো জাতির সামনে রেখে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, তবে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত কোনো আদেশে তারা সম্মতি দেয়নি।
“আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, কিন্তু জুলাই সংবিধান আদেশে স্বাক্ষর করি নাই,” বলেন তিনি।
সংসদের মাধ্যমেই সংস্কারের দাবি
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা হিসেবে সংসদের মাধ্যমেই যেকোনো সংস্কার হওয়া উচিত।
তার ভাষায়, “এই সংসদ সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। সংস্কার যদি হয়, তাহলে এই সংসদের মাধ্যমেই হোক—এটাই গণমানুষের প্রত্যাশা।”
‘দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের ফল’
জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো স্বল্পমেয়াদি ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন, নির্যাতন ও আত্মত্যাগের ফল।
বিএনপির প্রতি জনগণের সমর্থনের দাবি
তিনি দাবি করেন, দেশের ৫১ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে সংসদে নির্বাচিত করেছে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী পক্ষ বারবার বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার কথা বলছে।
অতীত রাজনীতি ও অভিযোগ
বক্তব্যে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।
এ সময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড, “ওয়ান-ইলেভেন” এবং ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কথাও উল্লেখ করেন।
খালেদা জিয়ার ভূমিকার উল্লেখ
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-এর ভূমিকার কথাও তুলে ধরে বলেন, তিনি ফ্যাসিবাদী শাসনের সঙ্গে কখনো আপস করেননি।
‘বেইমানির ইতিহাস বিএনপির নেই’
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, “বেইমানির ইতিহাস বিএনপির নেই,” এবং জুলাই সনদের নামে কোনো চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয় বলে সতর্ক করেন।
..