৯৯৯-এ আর্তনাদ-ওসির হুমকি-মান্দায় ভুক্তভোগীর বাড়িতে এবার অগ্নিসংযোগ

৯৯৯-এ আর্তনাদ-ওসির হুমকি-মান্দায় ভুক্তভোগীর বাড়িতে এবার অগ্নিসংযোগ
ভুক্তভোগী পরিবারের বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের দৃশ্য-ছবি : নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেও মেলেনি পুলিশের সহায়তা। উল্টো প্রতিকারের আশায় থানায় গিয়ে মিলল ‘চাঁদাবাজি মামলায়’ ফাঁসানোর হুমকি। নওগাঁর মান্দায় একটি প্রভাবশালী মহলের তাণ্ডবে নিঃস্ব হয়ে পড়া একটি পরিবার এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছে বিচারের আশায়। সবশেষ গত ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রাতে ভুক্তভোগী পরিবারের বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গণেশপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর মধ্যপাড়া গ্রামের তৈয়ব প্রামানিকের ছেলে রজব আলী গং-এর সঙ্গে একই গ্রামের তমিজ উদ্দিন চকদার গং-এর একটি স্কুলের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত ৭ মার্চ (শনিবার) দুপুরে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রজব আলীর পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই তাণ্ডবে বিবাদমান জমির কয়েকশ গাছ কেটে ফেলা হয়, ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চলে এবং পুকুরের মাছ লুট করা হয়।

গত ৭ মার্চ (শনিবার) ভুক্তভোগী পরিবারের পুকুর থেকে মাছ লুট করার দৃশ্য-ছবি : নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলার সময় প্রাণভয়ে তারা বারবার ৯৯৯-এ কল দিলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেনি। পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তায় হামলাকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সুযোগ পায়।

ঘটনার এক পর্যায়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম মাসুদ রানার একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ৯৯৯-এর কনফারেন্স কলে কথা বলার সময় ওসির অপেশাদার আচরণের প্রমাণ মেলে। ভুক্তভোগী পরিবার আইনি সহায়তা চাইলে ওসি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বলতে শোনা যায়, “বেশি বাড়াবাড়ি করলে বা বেশি কথা বললে চাঁদাবাজি মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে।” একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এমন হুমকিতে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

ওসির হুমকির রেশ কাটতে না কাটতেই গত ১২ মার্চ রাতে ভুক্তভোগী রজব আলীর বসতবাড়ি, খড়ির ঘর ও খড়ের পালায় অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। আগুনে আসবাবপত্রসহ সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রথম হামলার পরই যদি প্রশাসন কঠোর হতো, তবে দ্বিতীয়বার এই আগুনের ঘটনা ঘটত না। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করে মান্দা থানার ওসি কেএম মাসুদ রানা বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। কাউকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়।” তবে ভাইরাল হওয়া অডিওর কণ্ঠস্বর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি।

বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি ন্যায়বিচারের দাবিতে জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

..

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::