আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গত ১২ দিনে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অন্তত ৩৮ জন মার্কিন সেনা সদস্য। বুধবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহত সেনাদের মধ্যে অনেকেই ব্রেইন ট্রমা, আগুনে দগ্ধ হওয়া এবং শার্পনেলের আঘাতে আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে অন্তত একজন সেনার অবস্থা আশঙ্কাজনক; চিকিৎসকদের মতে তার একটি পা কেটে ফেলতে হতে পারে।
আহতদের মধ্যে ১৩ জনকে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রুক আর্মি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি আছেন। এছাড়া ১২ জন ওয়াশিংটনের নিকটে অবস্থিত ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি ২৫ জন জার্মানির ল্যান্ডস্টুল রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদরদপ্তর পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আহত ৩৮ সেনার মধ্যে অন্তত পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন আর্মি সেন্ট্রালের ফরওয়ার্ড সদর দপ্তর ‘ক্যাম্প আরিফজান’ এবং ইরাক সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ‘আলী আল সালেম’ বিমানঘাঁটি উল্লেখযোগ্য। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন পরিবেশের কারণে ঘাঁটিটি ‘দ্য রক’ নামেও পরিচিত। এছাড়া ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময় স্থাপিত ‘ক্যাম্প বুহেরিং’ বর্তমানে ইরাক ও সিরিয়ায় মোতায়েন মার্কিন সেনাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি কুয়েতের ঘাঁটিগুলোতেও ইরানের পক্ষ থেকে বারবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। বেশিরভাগ হামলাই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিহত করা গেলেও কিছু হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়নি।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল সিবিএসকে জানিয়েছেন, সংঘাত শুরুর পর থেকে গত ১১ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে মোট প্রায় ১৪০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
..