নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : নওগাঁর মান্দায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বিবাদমান জমির বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের বৈলশিং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পক্ষ জানায়, বৈলশিং মৌজার ২১ নম্বর জেএল-এর ৭০ নম্বর খতিয়ানে মোট ৫ একর ৩৭ শতাংশ জমি ওই গ্রামের বরকতুল্লাহ সরদারের ছেলে কোমর উদ্দিনের নামে আরএস রেকর্ডে ১৬ আনা অংশে প্রস্তুত হয়। এর মধ্যে ৯৮৬ দাগের ৬২ শতাংশ জমি থেকে কোমর উদ্দিন তার দুই স্ত্রীকে ৩১ শতাংশ করে জমি হেবা করেন। পরবর্তীতে নিঃসন্তান হওয়ায় অবশিষ্ট জমির অংশ তার দুই স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়দের মধ্যে ওয়ারিশ হিসেবে ভাগবণ্টন হয়।
পরে ওয়ারিশরা বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে জমির অংশ দবির উদ্দিন প্রামানিকের ছেলে শফিউদ্দিন প্রামানিকের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর শফিউদ্দিন তার মেয়ে মেহের নেগারের নামে জমি লিখে দেন। অন্যদিকে কোমর উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী কপিজন বিবি তার দালিলিক ১৫ শতাংশ জমি এবং স্বামীর অংশ থেকে প্রায় পৌনে চার শতাংশসহ মোট প্রায় ১২ শতাংশ জমি অছির উদ্দিন, খলিলুর রহমান ও মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে হস্তান্তর করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক প্রায় ১০ শতাংশ জমি দখল করে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করেছে। এছাড়া আরও প্রায় ৫২ শতক জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ সময় ২০০৬ সালের একটি আদালতের ডিগ্রি দেখিয়ে আরও জমি দখলের চেষ্টা করা হয় এবং বাড়ির পাশে বেড়া দিয়ে কিছু গাছ লাগানো হয়। অথচ ওই ডিগ্রিতে উভয় পক্ষেরই নাম রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই প্রতিবেদন দাখিল করেছে এবং আদালত থেকে সমন জারি হয়েছে।
ভুক্তভোগী আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মেহের নেগার বলেন, আদালতের সমন জারির পর প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের বাড়ির পাশের কুড়িরপাড় এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির কয়েকটি গাছ কেটে ফেলেছে। এতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে তার ভাই শামসুজ্জামানের প্রায় এক বিঘা জমির সরিষা জোর করে তুলে নিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এতে প্রায় ২৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। আদালত থেকে কমিশনার নিয়োগ না হলেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় প্রতিপক্ষ জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মেহের নেগার জানান, তারা প্রায় ৩০ বছর ধরে ওই জমিতে বসবাস করছেন। এর আগেও প্রতিপক্ষ তাদের বাড়ির সামনে বেড়া দিয়ে গাছ লাগিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে একা পেয়ে মামলার ৭ নম্বর আসামি ইয়াকুব আলীর স্ত্রী সাবিনা বিবাদমান জমিতে কলা গাছের আঠা খুলতে আসেন। বাধা দিলে গালিগালাজ ও হুমকি দেন। পরে মামলার ১০ নম্বর আসামি সেকেন্দার আলীর ছেলে শাকিব ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসে আইঠা, মানিক, আনাজি, চিনি চাম্পা কলা ও সজনে গাছের ডাল কেটে ফেলেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাকিব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ডিপের ড্রেন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেন এবং বেশিরভাগ সময় বিল এলাকায় থাকতে হয়। গাছ কাটার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তিনি দাবি করেন, প্রায় দুই মাস আগে তারা নিজেদের কিছু জমি দখলে নিয়েছেন। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং একাধিকবার গ্রাম্য শালিশও হয়েছে। তাদের দাবি, ওই জমিতে তাদের এক দাদির অংশ রয়েছে।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম মাসুদ রানা বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
..