নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজধানীর ধানমন্ডিতে গৃহকর্ত্রী ও গৃহকর্মীকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক তাওহীদা আক্তার এ রায় দেন।
রায়ে মামলার অন্যতম আসামি গৃহকর্মী সুরভী আক্তার নাহিদাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত বাসার দীর্ঘদিনের কর্মী বাচ্চু মিয়াকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালত রায়ে বলেন, ঘটনাস্থল, আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে নাহিদার বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে আদালত মনে করেন। অপরদিকে বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে প্রসিকিউশন ব্যর্থ হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।
২০১৯ সালের ১ নভেম্বর ধানমন্ডির ২৮ নম্বর সড়কের ‘লোবেলিয়া’ অ্যাপার্টমেন্টে শিল্পপতি কাজী মনির উদ্দিন তারিমের শাশুড়ি আফরোজা বেগম (৬৫) এবং বাসার গৃহকর্মী দিতি (১৮)-কে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর রাজধানীজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিনই সুরভী আক্তার নাহিদাকে ওই বাসায় কাজের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাকে কাজে নেওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করেছিলেন বাসার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত কর্মী বাচ্চু মিয়া।
পুলিশ ও তদন্ত সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, বাসার ভেতরে থাকা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঘটনার পরপরই নাহিদাকে আটক করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
মামলাটির বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ একাধিক সাক্ষী ও আলামত উপস্থাপন করে। আসামিপক্ষও নিজেদের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। রায় শুনতে নিহতদের স্বজন ও আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আলোচিত এ দ্বৈত হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে দণ্ডিত আসামি চাইলে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।