সোনার দেশ গড়তে ছাত্র সমাজ ও অন্তরবর্তীকালীন সরকারের নিকট সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা
জুয়েল রানা, জেলা প্রতিনিধি (পাবনা) :
আমাদের দেশ বাংলাদেশ। এই দেশ আমাদের গর্ব। তাই এই দেশ নিয়ে আমাদের দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষের রয়েছে হাজারো স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটুক আগামী দিনের নতুন পরিকল্পনা আর নতুন অবকাঠামোর মধ্য দিয়ে। দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষের আশা-আকাঙ্খা নিয়েই আজকের প্রতিবেদন। সেই আশা-আকাঙ্খা কতটুকু যৌক্তিক ধারাবাহিকভাবে সকলের জ্ঞাতার্থ ও মূল্যবান মতামতের জন্য তুলে ধরা হলো। আপনারা দৈনিক সমাচারের অফিসিয়াল ফেজবুক পেজে আপনার মূল্যবান মন্তব্য পেশ করতে পারবেন।
দুর্নীতি দমন করা: তাদের সকলের প্রত্যাশা; প্রথমেই রুখতে হবে দুর্নীতি। সুন্দরভাবে দেশ সাজাতে দুর্নীতি রুখতে হবে সবার আগে। দুর্নীতি দমন কমিশন হতে হবে সম্পূর্ণভাবে দলীয় প্রভাব মুক্ত। সকল দুর্নীতি শক্ত হাতে প্রতিরোধ করতে সৎ, পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ করতে হবে। যারা সবসময় দেশের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করবেন। তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন ছিল সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্থ। দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতি দমন করতে গিয়ে আরো বেশি দুর্নীতি করেছে। তারা দুর্নীতি করা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নিকট থেকে মোটা অঙ্কের উপঢৌকন গ্রহণ করে ধামাচাপা দিয়েছে। তাই প্রতিনিয়ত দেশের সকল দুর্নীতির অভিযোগ গ্রহণ করতে হবে সকল সাধারণ ও শ্রেণি পেশার মানুষের নিকট হতে। দুনীর্তির অভিযোগগুলো দেশের সকল আঞ্চলিক বাজার/শহর, থানা, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় শহরে ডিসপ্লে বোর্ডের মাধ্যমে প্রদর্শন করতে হবে এবং কোন অভিযোগের জন্য কি ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো তাও স্ক্রোলে প্রদর্শন করতে হবে।গণতান্ত্রিক কার্যক্রম পরিচালনা: সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা দেশে ভোটের মাধ্যমেই জনপ্রতিনিধ নির্বাচন করা হোক। তবে কোন দল বা জোট ও প্রতীক থাকবে না। “আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব” এই স্লোগানের সূত্র ধরে ভোট প্রদানে গণতান্ত্রিক অধিকার চায়। যেন প্রকৃতভাবে সকলেই যোগ্য প্রতিনিধি-ই নির্বাচন করতে পারে। এতে কেউ কোন প্রতিহিংসা বা দলীয় প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে এলাকায় বিশৃঙ্খলা করতে পারবে না। নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীর সমন্বয়েই সরকার গঠন করা হোক। সেখানে কেউ সরকার বা বিরোধী পক্ষ থাকবে না। এজন্য সংসদে উত্থাপিত বিল/সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে নিজ এলাকার এমপির নিকট মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে হ্যাঁ/না সমর্থনে ভোট প্রদান করতে চায় সাধারণ জনগণ। অর্থাৎ জনগণ-ই হবে বিরোধী পক্ষ। অধিকাংশের মতামতের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদের প্লাজমা স্ক্রিনে ফলাফল প্রদর্শন করবে এবং সকলেই তা সমর্থন জানাবেন। এছাড়াও ছাত্র সমাজ ডেস্ক থাকবে যেখান থেকে ছাত্ররা দেশের বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরবেন। এই অসংগতি অত্যন্ত গুরুত্বের চোখে দেখবেন প্রশাসন।রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের ভূমিকা: জনগণের দাবি সেনাবাহিনী, বিজিবি, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনীর কার্যক্রম ঠিক থাকলেও ঢেলে সাজাতে হবে পুলিশ, র্যা ব ও অন্যান্য বাহিনীকে। দেশের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম হবে দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে। ভিআইপি কোন লাউঞ্জ বা কোন সুবিধা থাকবে না। সম অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশের সকল প্রশাসনিক দপ্তরে নির্ভয়ে দেশের মানুষের প্রবেশাধিকার থাকতে হবে। কোন সেবা পেতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুপারিশ লাগবে না। কেননা রাজনৈতিক ব্যক্তিরা নিজেই জনগণের সুপারিশপ্রাপ্ত। তাই দেশের সকল মানুষের সেবা প্রদানের মান হবে অত্যন্ত শৃঙ্খলাপূর্ণ। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা: স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় থাকবে এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষ থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ে সুবিধা পৌঁছানো। ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা পরিষদ থেকে এলাকার মানুষের জন্য হয়রানি মুক্ত সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সেবা ডেস্ক চালু করতে হবে। সকল সেবা বা সহযোগীতা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। মানুষ সারাদিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আর সরকারি সহযোগিতা গ্রহণ করতে চায় না। সকল মেম্বার বা স্থানীয় প্রতিনিধি শুধুমাত্র মানুষের সেবার লক্ষ্যেই কেবল নিয়োজিত থাকবেন, বাবুগিরি দেখানোর জন্য নয়। আমরা বলি দেশকে ভালোবাসি বলেই জনপ্রতিনিধি হিসেবে উপকার করতে চাই, তাহলে মানুষের জন্য পরিশ্রম করতে পারব না কেন? কাজেই আমাদের মুখ আর বুক একই কথা বলতে হবে। লোক দেখানো জন্য নয়।
নির্মাণ/কনস্ট্রাকশন: কনস্ট্রাকশন কাজে সব রকম টেন্ডারবাজি বন্ধ করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তারা নিজেই লোক নিয়োগ করে স্থাপনার কাজ সম্পন্ন করবেন। প্রত্যেক স্থাপনার ধারাবাহিক সংস্কার বজায় রাখতে হবে ও নতুন নতুন স্থাপনার মাস্টার প্ল্যান করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। কোন কর্মকর্তাকে বসিয়ে আর ফুটানি করে একটি টাকাও বেতন দেওয়া দিতে চায় না বাংলার জনসাধারণ। সকলকে সঠিক সময় মতো দায়িত্ব পালন করতে হবে।শিক্ষা ব্যবস্থা: বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্থ হলো শিক্ষা প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যোগ্য প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন হয় না। এছাড়াও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বা স্বীকৃতির জন্য একটি বড় অঙ্কের টাকা খরচসহ দালালের পিছে পিছে ঘুরতে হয়। শুধু তাই নয়, ফলাফল জালিয়াতিরেও নজির রয়েছে। পাঠ্য পুস্তক বোর্ডের রয়েছে দুর্নীতিতে বিশেষ অবদান। পাঠ্য পুস্তক মুদ্রণে হয় অর্থ লুটপাট আর পান্ডুলিপি প্রণয়নে হয় ইতিহাস বিকৃতি। এছাড়াও দেশের প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত রয়েছে যথেষ্ঠ পরিমাণ দুর্নীতির ছাপ। দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান এখনো বহাল তবিয়তে শিক্ষার্থীদের টাকা লুটেপুটে খাচ্ছে। ভর্তি, পুনঃভর্তি, শিক্ষা উপকরণ বিক্রি, ফরম ফিল আপ, রেজিস্ট্রেশন, পরীক্ষার ফি-সহ নানাভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্রাইভেট, কোচিং বাণিজ্য তো আছেই। ফলে বর্তমান শিক্ষা কারিকুলামের অপপ্রচার করছেন এই কারিকুলামে পাঠদানে অক্ষম কিছু অযোগ্য শিক্ষক ও মাথামোটা কিছু অভিভাবক। বর্তমান শিক্ষা কারিকুলাম সম্পূর্ণ গবেষণা মূলক, শিক্ষার্থী বান্ধব ও প্রাইভেটের আওতামুক্ত। কাজী জাকারিয়া জুয়েল নামে একজন শিক্ষক বলেন, “আমি একজন শিক্ষক হিসেবে এই কারিকুলাম পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করে মনে হয়েছে আমাদের সন্তানদের জন্য অপরিহার্য একটি শিক্ষা কারিকুলাম। এই কারিকুলামের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় ব্যর্থতায় পর্যভূষিত হচ্ছে।” কাজেই আমাদের সকল বিষয়ে নজর রাখতে হবে।ধর্মীয় ব্যবস্থা: সকলের ঐকান্তিক প্রত্যাশা, নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে হবে ও অন্যান্য সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। কেউ কোন ধর্ম নিয়ে বাজে মন্তব্য করতে পারবে না বা অন্য ধর্ম পালনে বাধা প্রয়োগ করবে না। বিশেষ করে ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন মতাবলম্বীরা রয়েছেন। বর্তমানে একই ধর্মে কিছু মতানৈক্য থাকায় ধর্মীয় শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে। নিজেরা নিজেদের মধ্যে অশান্তি তৈরি করছে। সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ বলছেন, “কোনটি ঠিক আর কোনটি ভুল আমাদের তা বিচার করার ক্ষমতা নেই। একেক হুজুর একেক কথা বলেন।” কাজেই একই ধর্মের মধ্যে বিভিন্ন মতানুসারী থাকলেও তাদের নিজ মতানুযায়ী ধর্ম পালনে বাধা দেওয়া যাবে না। বরং ধর্মীয় উত্তম আচরণের মাধ্যমে নিজের ধর্মের সুনাম বজায় রাখতে হবে। তথ্য প্রযুক্তি, টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম ও গণ মাধ্যম: আমাদের দেশ বর্তমানে প্রযুক্তি নির্ভর। আমরা চাই আমাদের দেশের তথ্য প্রযুক্তি ও টেলি কমিউনিকেশন সিস্টেম হোক সকলের সকল সেবার মাধ্যম। তাই দেশের কল্যাণ মূলক দিক চিন্তা করে এগুলোর ব্যবহার হতে হবে উপকার ভোগী। ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে অতীতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর প্রতিকার করতে হবে। সাধারণ মানুষের দাবি মিনিট, এমবি বা প্রভৃতি বিষয়ে যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো সমাধান করতে হবে। যেমন- মিনিট, এমবি বা রিচার্জ এমাউন্টের কোন মেয়াদ থাকবে না। অকারণে কেনইবা ফোনের ব্যালেন্স শেষ হবে এসব বিষয়ে সমাধান করতে হবে। সার্বিকভাবে মানুষের হয়রানি হতে হয় এমন কোন কাজ সিম অপারেটর কম্পানিগুলো করতে পারবে না। এছাড়াও দেশের মানুষের জোর দাবি আগামী প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়তে তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। তবে দেশের তরুণ সমাজ মোবাইল গেম, মোবাইল ক্যাসিনো বা জুয়া খেলাসহ মোবাইলকে ঘিরে আরো যে সকল ধ্বংসাত্মক দিক রয়েছে সেগুলো চিরতরে দেশ থেকে তুলে দিতে হবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন টেলিভিশনে বিজ্ঞাপনের স্বাভাবিক লিমিট রাখতে হবে। টিভি চ্যানেলের সম্প্রচারে দর্শক বিব্রত দিকগুলো পরিহার করতে হবে। সকল গণ মাধ্যমকে স্বাধীনভাবে তাদের তথ্য প্রচারে সহযোগীতা করতে হবে। কোন সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহে যেন কোন অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। এবং গণ মাধ্যমকে সাংবাদিকদের একটি বেতন প্রদান করতে হবে। তাহলে তারা আর কোন রাজনৈতিক ব্যক্তির পা চাটা দালাল বা হলুদ সাংবাদিকে পরিণত হবে না। সাংবাদিকরা কোথাও থেকে কোন হাদিয়া গ্রহণ করলে আর তার প্রমাণ মিললে আইনের আওতায় আনতে হবে। বিভিন্ন মাদকাসক্তি রোধ করা: দেশে কোনভাবেই মাদকের প্রশ্রয় বা লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। নেশা জাতীয় কোন দ্র্ব্যই বাংলাদেশে থাকবে না। এছাড়াও যুব সমাজ ধ্বংসাত্মক কোন প্রচার বা বিজ্ঞাপনের সুযোগ রাখা যাবে না। এক কথায় অন্যায় রুখতে অন্যায়ের শিকড়-ই উপড়ে ফেলতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা-বাণিজ্য: বাংলাদেশের বিভিন্ন সেকশন তাদের ব্যবসা সুষ্ঠভাবে পরিচালনার সুবিধার্থে প্রশাসনকে একটি বড় পরিমাণে উপঢৌকন প্রদান করতে হয়। নাম না প্রকাশের শর্তে একজন ইট ভাটা মালিক বলেন, “যেমন ধরেন আমার একটি ইট ভাটা আছে। এটি পরিবেশের জন্য কিছুটা প্রভাব ফেললেও এখন অনেকটাই পরিবেশ বান্ধব ও নিম্ন বিত্ত খেটে খাওয়া মানুষের কর্মসংস্থান। একটি ইট ভাটা পরিচালনা করতে মাটিই মূল উপাদান। সেই মাটি কাটতে থানার ওসি, ইউএনও, এসি ল্যান্ড ও ক্ষমতাসীন দলের প্রতিনিধিদের একটি বড় টাকার অংশ দিতে হয়। শুধু তাই নয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের লোকসহ বিভিন্ন সাংবাদিক ভাটার কার্যকম পরিবেশ বান্ধব নয় বলে চাঁদা বা ঘুষ দাবি করে। তাই দেশের যে প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের আর্তসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখে সে সকল প্রতিষ্ঠানকে একটি সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে দিয়ে নিবন্ধন প্রদানের মাধ্যমে পরিবেশ ও জনবান্ধব করতে হবে। যেন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজরা কোন সিন্ডিকেট না করে ব্যবসার ক্ষতি করতে পারে। এই ধরণের ক্ষতির কারণে একটি ভাটার মালিককে সামগ্রিক খরচ হিসেব করে ইটের দাম ধরতে হয়। এতে মালিকের তেমন কোন ক্ষতি হয় না, বরং ক্ষতিগ্রস্থ হয় সাধারণ ক্রেতা ও জনগণ। তাদের বেশি মূল্য দিয়ে ইট কিনতে হয়। তাহলে এই ইটের বেশি মূল্য হাঁকার জন্য দায়ি প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহল। “ এই ইট ভাটা মালিকের বর্ণনা অনুযায়ী একইভাবে দেশের সকল পণ্যের দাম সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিদুৎ গতিতে বেড়েই চলেছে। এসকল বিষয়ে নজর দিয়ে ভোক্তা অধিদপ্তর যেন শক্ত হাতে দমন করতে সক্ষম হয় ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হ্রাস করেন।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা: সাধারণ মানুষর সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন বিদ্যুৎ খাত। বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করতে হয়রানি, মিটার রিডিং-এ দুর্নীতি, একটি বিশেষ এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়া ও অন্যান্য এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, অভিযোগ কেন্দ্রের যোগাযোগ নম্বর বন্ধ রাখা, মিটার ভাড়াসহ নানা ধরণের সমস্যা সমাধান করার আহ্বান সাধারণ মানুষের। এছাড়াও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা প্রদানে একটি সুন্দর পরিকল্পনা যেন তাদের প্রাণের দাবি।দেশের নিয়োগ ব্যবস্থা: সাধারণ চাকরি প্রার্থীদের প্রত্যাশা চাকরির আবেদন ফি সীমিত ও সাধ্যের মধ্যে থাকতে হবে। চাকরিতে নিয়োগের জন্য প্রথাগত চাকরির পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন করে কোন কাজের জন্য নিয়োগ করা হবে সেই কাজের জন্য সে কতটা উপযুক্ত ও দক্ষ সেটি নির্ণয় করতে হবে। এক কথায় কাজ বা চাকরির ধরণ অনুযায়ী কতটা যোগ্য তাই নির্ণয় করতে হবে। ভাইবা পরীক্ষার মাধ্যমে দলীয় সনদ বা ঘুষের টাকা চাওয়ার মতো ঘৃণীত পদ্ধতি বন্ধ করতে হবে। মুখস্তকৃত বিদ্যা আর কোচিংকৃত চাকরির প্রার্থী দেশের কাজের জন্য যথেষ্ট নয়। তাদের হতে হবে সময়নিষ্ঠাবান, সৎ, আদর্শ ও দেশপ্রেমিক। কোন ভাবেই কারো হক্ব বিনষ্ট বা কোন সুবিধা নিতে লোভ করবে না। কোন ঘুষ থাকবেনা, দুর্নীতি ও সুপারিশ ব্যবস্থা থাকবে না। থাকবে না কোন কোটা পদ্ধতি। “কাজের যোগ্যতা আছে যার, সেই করবে তার কাজ” এই স্লোগানের আলোক নিয়োগ পদ্ধতির প্রচলন ঘটাতে হবে।পরিশেষে সকলের মতামত পর্যবেক্ষণ করে বলা যায়, আমরা সকলেই আমাদের দেশটাকে সুন্দর করতে সর্বদা সুন্দর মনের প্রকাশ ঘটাতে যেন আজ প্রস্তুত। নিজের দেশটাকে ঢেলে সাজানো হোক- এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ছাত্র সমাজ ও অন্তরবর্তীকালীন সরকারের কাছে দেশের শান্তি প্রিয় জনগণ।
..