নিজস্ব প্রতিবেদক : মাতৃভাষায় শিক্ষাসহ সর্বস্তরে মাতৃভাষার প্রচলনের দাবিতে ভাষার মাসে ‘বর্ণমালার মিছিল’ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক স্থান ঢাকা মেডিকেল কলেজের আমতলা থেকে বাংলা, চাকমা, মারমা, আরবিসহ বিভিন্ন ভাষার বর্ণমালা নিয়ে এই মিছিল বের করে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি দোয়েল চত্বর, হাই কোর্ট মোড়, কদম ফোয়ারা হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে সমাবেশে আদিবাসীদের উপর সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বন্ধ এবং তাদের বর্ণমালা সংরক্ষণের দাবি জানান বক্তারা। সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল বলেন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী একটি জাতিকে ধ্বংস করতে যেভাবে ভাষার উপর আঘাত হেনেছিল, ঠিক একইভাবে সরকার আদিবাসীদের ভাষার উপর আঘাত হেনেছে। তাদের ভাষার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। টাঙ্গাইলের মধুপুরে আদিবাসীদের ভূমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। বান্দরবনের চিম্বুক পাহাড়ে আদিবাসীদের জায়গা দখল করে পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ হচ্ছে। তিনি বলেন, এই ভাষার মাসে বরকত, রফিক, জব্বারদের নামে আমরা শপথ করছি, সবার মাতৃভাষা রক্ষাসহ যতদিন মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণ না হবে, ততদিন আমরা রাজপথে থাকব, লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাব। ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি কেএম মুত্তাকীর বলেন, আমাদের রাষ্ট্র কেবল বাঙালি নৃগোষ্ঠীর নয়। এই ভূখণ্ড যেমন বাঙালির, তেমনই আদিবাসীরও। ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমাইয়া সেতু বলেন, সরকার প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ৫টি মাতৃভাষা শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে, কিন্তু মাতৃভাষা শিক্ষা এবং মাতৃভাষায় শিক্ষা এক বিষয় না। সব আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক খায়রুল হাসান জাহিন, সদস্য দিদারুল ইসলাম শিশির, পিরোজপুর জেলা সভাপতি ইমন চৌধুরী ও মানিকগঞ্জ জেলা সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহমেদ বক্তব্য দেন।