মুহাম্মাদ আরিফুর রহমান রণি – ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় মাদক নির্মূলে পুলিশের বিশেষ অভিযানে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। এখন থেকে শুধু মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তারই নয়, মাদকসেবী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজনদের আইনের আওতায় আনতে ‘ডোপ টেস্ট’ (মাদক পরীক্ষা) পদ্ধতি চালু করেছে থানা পুলিশ। পরীক্ষায় মাদক সেবনের প্রমাণ মিললেই মামলা দায়ের করে পাঠানো হচ্ছে কারাগারে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজাপুরে মাদক দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে ওসি নজরুল ইসলামের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তিকে আটকের পর যদি তার আচরণে মাদকাসক্তির লক্ষণ দেখা যায়, তবে তাকে দ্রুত ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই পদ্ধতিতে পরিচালিত অভিযানে দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে দুটি নিয়মিত মামলার মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের এই কৌশলী পদক্ষেপে মাদকসেবীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জানা গেছে, এলাকাভিত্তিক মারামারি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদেরও এই টেস্টের মুখোমুখি করা হচ্ছে। এতে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ উগ্র আচরণ বা আইনশৃঙ্খলার পরিপন্থী কাজে লিপ্তরাই কোনো না কোনো মাদকে আসক্ত।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন:
“মাদক নির্মূলে আমরা কোনো আপস করছি না। কেউ মাদকসহ ধরা না পড়লেও যদি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে বা মাদক সেবন করে উগ্র আচরণ করে, তবে আমরা ডোপ টেস্টের মাধ্যমে তার সংশ্লিষ্টতা যাচাই করছি। প্রমাণ পেলেই পুলিশ বাদী হয়ে নিয়মিত মামলা দায়ের করছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে পুলিশের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। অনেকেই মনে করছেন, কেবল অপরাধী নয়, দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী এবং চাকুরিজীবীদের ক্ষেত্রেও ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা গেলে সমাজ থেকে মাদকাসক্তি নির্মূল করা সহজ হবে। এতে অনেক অসহায় বাবা-মা ও অভিভাবক তাদের সন্তানদের বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারবেন।
ঝালকাঠি জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রাজাপুরের এই মডেলটি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের এমন কঠোর ও বিজ্ঞানসম্মত অবস্থান শহরজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।
..