ফাহিম হোসেন রিজু,ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুর-৬ (হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট, বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, নতুন বাংলাদেশে কোনো বিশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি বা দুর্নীতির ঠাঁই হবে না। তিনি প্রশাসনকে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের নির্দেশ দিয়ে বলেন, “অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন—এমনকি সে যদি আমার ভাই পরিচয় দেয়, তাকে সবার আগে আইনের মুখোমুখি করতে হবে।”
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় ঘোড়াঘাট উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনের উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকে এক নম্বর অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “কোনো অবস্থাতেই মব কালচার বা বিশৃঙ্খলা প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। আপনারা আইনের লোক, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। কোনো খাতির চলবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “অতীতের ভুল নিয়ে হাপিত্যেশ করার সময় আমাদের নেই; আদালত সেগুলো দেখবে। আমাদের দায়িত্ব এখন দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে নেওয়া।”
ঘোড়াঘাট উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে ডা. জাহিদ হোসেন পাঁচটি মূল স্তম্ভের কথা উল্লেখ করেন, আইন-শৃঙ্খলা: শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যোগাযোগ ব্যবস্থা: সড়ক সংস্কার ও পাকা করা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর রাস্তা খারাপের জন্য ছেলে-মেয়ের বিয়ে ভেঙে যায়—এমন কথা আর শুনতে চাই না।” কর্মসংস্থান: স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। মাদক ও অপরাধ দমন: মাদক, জুয়া, ভূমি দখল এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’। শিক্ষা: প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে মন্ত্রী বড় ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। মন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেন, “এই কার্ড বিতরণে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না। এটি হবে ‘ইউনিভার্সাল সিলেকশন’। কোনো দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবার এই সুফল পাবে।”
আদিবাসী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “আমরা মঙ্গল গ্রহ থেকে লোক এনে কাজ করব না। আপনাদের নিয়েই কাজ করতে হবে। প্রতিটি ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা বিধান আমাদের সবার দায়িত্ব।” বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে যাতায়াতের কাঁচা রাস্তাগুলো দ্রুত পাকা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই মতবিনিময় সভায় উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, স্কুল-কলেজের শিক্ষক মন্ডলী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সবশেষে, একটি বসবাসযোগ্য ও সমৃদ্ধ ‘ঘোড়াঘাট’ গড়ে তুলতে তিনি প্রশাসন ও সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।