সমাচার ডেস্ক: কেরানীগঞ্জে সাংবাদিক জগতের দিকপাল, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কেরানীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন। বার্ধক্যজনিত কারণে গতকাল শনিবার বিকেলে নিজ বাসভবন দক্ষিণ মান্দাইলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।
মরহুম সাইফুল ইসলাম স্ত্রী, তিন কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ১১ সহোদরের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। তাঁর পিতা মরহুম নুরুল ইসলাম ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা।
মোঃ সাইফুল ইসলাম একাধারে কেরানীগঞ্জ প্রেস ক্লাব ও পারজোয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তিনি দক্ষিণ মান্দাইল জামে মসজিদ পরিচালনা পর্ষদের টানা ৩০ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি ঢাকা মহানগর সমিতি (ঢাকা সমিতি), কবি কায়কোবাদ পাঠাগার, কবি সিরাজুল ইসলাম পাঠাগার, পারজোয়ার জনকল্যাণ সমিতি, পারজোয়ার কারাতে ও কুংফু ক্লাবসহ একাধিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আজীবন সদস্য ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে সাইফুল ইসলাম ছিলেন একজন সৎ, সজ্জন ও বিনয়ী মানুষ। তিনি ১৯৭৮ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক জগন্নাথ কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পুরান ঢাকার আরমানিটোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র মোঃ সাইফুল ইসলাম পেশাগত জীবনে একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ীও ছিলেন।
তিনি ১৯৭০ সালে দৈনিক বাংলা পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে দৈনিক পূর্বদেশ, দৈনিক আজাদীসহ একাধিক পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেন। মরহুমের বড় ভাই আনোয়ারুল ইসলামও ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক। দুই ভাই মিলে পরবর্তীতে দৈনিক ক্যাপশন, সাপ্তাহিক জিনজিরা ও সাপ্তাহিক ঘন্টা নামে তিনটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। এর মধ্যে সাপ্তাহিক জিনজিরা পত্রিকাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে এই দুই সহোদরের রয়েছে বীরত্বগাঁথা ইতিহাস। ১৯৭১ সালে কেরানীগঞ্জে সংঘটিত গণহত্যার নানা দুর্লভ ছবি ও দুঃসাহসিক সংবাদ দৈনিক বাংলায় প্রকাশ করে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মহৎ কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তিগত জীবনে তাঁরা বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেন।
মরহুম সাইফুল ইসলামের মৃত্যুতে বিভিন্ন মহল গভীর শোক প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “সাইফুল ইসলাম ছিলেন একজন সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিক। তাঁর ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে তিনি সমাজের নানা অসংগতি তুলে ধরে প্রতিকারের চেষ্টা করেছেন।”
ঢাকা-২ আসনের এমপি পদপ্রার্থী আমান উল্লাহ আমান বলেন, “সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম ছিলেন অকুতোভয় একজন কলমযোদ্ধা। তিনি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তাঁর কর্মময় জীবন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সাংবাদিক প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা জেলা আমীর ও ঢাকা-৩ আসনের এমপি পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মোঃ শাহীনুল ইসলাম বলেন, “সাইফুল ইসলাম তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় আজীবন কাজ করে গেছেন।”
কেরানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহজাহান বলেন, “সাইফুল ইসলাম শুধু একজন সাংবাদিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক।”
এছাড়াও মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন দৈনিক সমাচার পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আবু তালেব, কেরানীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ আব্দুল গনি, সাধারণ সম্পাদক শামিম আহমেদসহ বিভিন্ন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
..