“কাঠুরিয়ার খপ্পরে চবির শাহ আমানত হল, নীরব প্রশাসন”

“কাঠুরিয়ার খপ্পরে চবির শাহ আমানত হল, নীরব প্রশাসন”

নাঈম হোসেন দূর্জয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হল যেন অভিভাবকহীন এক ছাত্রাবাস। নানামুখী সমস্যার অভিযোগ থাকলেও, মিলছে না কোন সমাধান।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অবাধে কাঁটা হচ্ছে হল প্রাঙ্গণের গাছ, যার ফলে জীববৈচিত্র্য যেমন বিপন্ন হচ্ছে, তেমনি গ্রীষ্মকালে তীব্র রোদের প্রকোপে পড়বে চবির শাহ আমানত হল। লাগামহীন বৃক্ষনিধনের নেই কোন জবাব। ইতিমধ্যে হলটির বিশের অধিক অর্ধ বর্ষীয়ান গাছ কেঁটে ফেলা হয়েছে।

বেহাল দশা হলটির দেয়ালের পলিস্টার খসে পড়ে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। সম্প্রতি ভূমিকম্পের ফলে আমানত হলও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হল রুমের লকার ও জানালা ভাঙ্গা হলেও মেরামতের কোন আশা দেখছেন না শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত পানির ফিল্টার নেই, বেশি ধারণক্ষম ফিল্টারের অভাবে প্রায়ই পানির সমস্যায় ভুগে শিক্ষার্থীরা। তার ওপর পানিতে আয়রন আরও একটি বড় সমস্যা।

এছাড়াও মশার উপদ্রব, বাথরুম পর্যাপ্ত উপকরণ নাই এবং অপরিচ্ছন্ন বাথরুমের ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মিল সিস্টেম চালু করে তাদের সাথে বৈষম্য করা হচ্ছে।

হল প্রশাসনের উদাসীনতার জন্য এর আগেও শাহ আমানত হল প্রভোস্ট চৌধুরী মোহাম্মদ মনিরুল হাসানকে শিক্ষার্থীরা হল অফিসে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল।

প্রভোস্টের অসংগতি ও সার্বিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে আবাসিক শিক্ষার্থী নাহিদ গণমাধ্যমকে বলেন, “দায়িত্বে গাফিলতি ও প্রয়োজনীয় কাজের উদ্যোগে অসংগতির কারণে আমরা শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছিলাম। তাতেও উনার কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন চোখে পড়েনি। তিনি বেশিরভাগ সময়েই হলে থাকেন না। দায়িত্ব অবহেলা করেন। যে-কোনো বিষয়ে পরামর্শ করতে গেলেই তিনি বলেন বাজেট নেই, বাজেট আসলে দেখা যাবে৷ আমরা আরো দায়িত্বশীল ও নীতিবান প্রভোস্ট চাই “

অব্যবস্থাপনার বিষয়ে শাহ আমানত হল সংসদ জিএস আবিদ বলেন, “হল সংসদ নির্বাচনের পর প্রয়োজনীয় কাজে প্রভোস্টের উদাসীনতার জন্য আমরা আন্দোলন করেছিলাম। পরবর্তীতে আমরা ভিসি ও প্রো ভিসি স্যার এর সাথে বসে আলোচনা করেছিলাম। তখন ১৫ টা দাবি জানিয়েছিলাম। যার মধ্যে ক্যান্টিন ও সাইকেল স্ট্যান্ড চালু হয়েছে। বাকি কাজগুলোর জন্য আমরা চাপ দিয়ে যাচ্ছি প্রভোস্ট কে। তিনি কাজের ক্ষেত্রে উদাসীন। আমরা ভিসি’র কাছে আরো দায়িত্বশীল একজন কে চেয়েছিলাম,কি প্রভোস্ট তার মেয়াদকাল আরো ১ বছর বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন। কাজ হলেও তার উদাসীনতার জন্য খুব ধীরে ধীরে হচ্ছে। কোনো উদ্যোগ নিয়ে কথা বললেই তিনি বাজেটের স্বল্পতার অযুহাত দিয়ে থাকেন।”

এ বিষয়ে গণমাধ্যম থেকে শাহ আমানত হল প্রভোস্ট কে মুঠোফোনে যোগাযোগের একাধিক বার চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

..

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::