নামের মিলেই টেকনাফে মসজিদের মুয়াজ্জিন হত্যা মামলার আসামি

নামের মিলেই টেকনাফে মসজিদের মুয়াজ্জিন হত্যা মামলার আসামি
ফরহাদ রহমান, টেকনাফ প্রতিনিধি: নামের মিলের জেরে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে একটি মসজিদের মুয়াজ্জিনকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে হত্যা মামলায় আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে নিরীহ ওই মুয়াজ্জিনকে মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জানুয়ারি মুচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ডাকাত দলের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে নুর কামাল নামে এক রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত হন। ঘটনার পাঁচ দিন পর, ১৩ জানুয়ারি নিহতের মা হামিদা বেগম বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে ১০ জনকে নামীয় ও ৪–৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখানো হয়। এর মধ্যে ৯ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয় জামাল হোছন ডাকাত (৩৩), পিতা আব্দুল গফুর, সাং-পুর্ব লেদা। তবে একই নামের আরেক ব্যক্তি—জামাল হোছন—উক্ত ঠিকানার লেদা পুচিঙ্গাপাড়া নতুন জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও খাদেম হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, মসজিদের মুয়াজ্জিন জামাল হোছন পাশ্ববর্তী একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি এনজিওতে কর্মরত। চাকরি শেষে তিনি নিয়মিত মসজিদে আজান দেন ও নামাজে সময় কাটান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি একজন শান্ত, ভদ্র ও ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার কিংবা পরিবারের কারো বিরুদ্ধে থানায় বা আদালতে কোনো মামলা-মোকদ্দমা নেই বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে মামলার বাদী হামিদা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি মসজিদের মুয়াজ্জিন জামাল হোছনকে আসামি করেননি। লোকজনের প্ররোচনায় নামের মিল থাকায় ভুলবশত এমনটি হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তিনি আরও জানান, নিরীহ মুয়াজ্জিনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবেন।
ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। লেদা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, জামাল হোছন অত্যন্ত শান্ত ও নম্র প্রকৃতির একজন মানুষ। তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত তাকে মিথ্যা মামলা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
হ্নীলা ইউনিয়ন দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক সেলিম সর্দার ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবিএম জাফরুল ইসলামও একই দাবি জানিয়ে বলেন, নামের মিলকে কেন্দ্র করে একজন মসজিদের মুয়াজ্জিনকে হত্যা মামলায় জড়ানো অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।
লেদা ইবনে আব্বাস মাদরাসার মুহতামিম আলহাজ্ব মাওলানা ক্বারী শাকের আহমদ বলেন, “নামের মিল থাকতে পারে, কিন্তু তাই বলে একজন নিরীহ মুয়াজ্জিনকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে হত্যা মামলায় আসামি করা ভয়াবহ নজির।”
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে নিরীহ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে গুরুত্বসহকারে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
..

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::