এর আগে, গত রোববার (১০ নভেম্বর) দুপচাঁচিয়ার জয়পুরপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে হত্যার পর খুনিরা উম্মে সালমার লাশ ফ্রিজে রেখে যায়। দুদিন পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উম্মে সালমার ছোট ছেলেকে আটক করে র্যাব। পরদিন র্যাব জানায়, উম্মে সালমার ছেলে সাদ বিন আজিজুর রহমান স্বীকার করেছেন তিনি নিজেই তার মাকে হত্যা করেছেন। আর এখন জেলা পুলিশ বলছে, সাদ তার মাকে হত্যা করেননি। তাদের বাড়ির ভাড়াটিয়া মাবিয়া আক্তার ২ সহযোগীকে নিয়ে হত্যা করেছেন উম্মে সালমাকে। মাবিয়া ও তার দুই সহযোগী সুমন চন্দ্র এবং মোসলেমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের সময় বাসা থেকে খোয়া যাওয়া ওয়াইফাই রাউটার এবং মোবাইলের সূত্র ধরে তারা প্রথমে আটক করেন বাসার ভাড়াটিয়া মাবিয়া আক্তারকে। মাবিয়া পুলিশকে জানান, ৪ মাস আগে উম্মে সালমার ওই বাসা ভাড়া নিয়ে তিনি মাদক ও অনৈতিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি টের পেয়ে উম্মে সালমা ও তার স্বামী আজিজুর রহমান মাবিয়া আক্তারকে এক মাস ধরে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলছিলেন। তার কাছে দুই মাসের ভাড়াও পাওনা ছিল। বিষয়গুলো নিয়ে মাবিয়া উম্মে সালমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাই তিনি তার সহযোগী ও মাদক ব্যবসায়ী সুমন এবং মোসলেমকে নিয়ে গেল শনিবার উম্মে সালমাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ঘটনার সময় মাবিয়া প্রথমে ওই বাসায় ঢোকেন। পরে মোবাইলে ডেকে নেন দুই সহযোগী সুমন ও মুসলেমকে। তারা দুজন বাসায় ঢুকেই চেতনানাশক স্প্রে করে উম্মে সালমাকে অচেতন করেন। এরপর তার নাক-মুখ-হাত বেঁধে বাসার ডিপ ফ্রিজে ঢুকিয়ে রেখে তিনজন সেখান থেকে বেরিয়ে যান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, আটকের পর মাবিয়া, সুমন ও মুসলেম উম্মে সালমাকে হত্যার কথা স্বীকার করে ঘটনার পুরো বিবরণ দিয়েছেন। পরে তাদের দেখানো জায়গা থেকে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত জিনিসপত্র এবং বাসা থেকে খোয়া যাওয়া জিনিসপত্র উদ্ধার করে। বিকেলে তাদের তিনজনকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী নেয়ার জন্য বগুড়ার আদালতে নিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার আরো অধিকতর তদন্ত চলমান রয়েছে।