১২ এপ্রিল ২০২৬
আন্তর্জাতিক সমাচার ডেস্ক : দীর্ঘ আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধে কোনো চুক্তি হয়নি। রোববার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে এ আলোচনা ভেস্তে যায়, যা নাজুক যুদ্ধবিরতিকে আরও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করেছে। ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যার বেশিরভাগই ইরানের নাগরিক। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দামও ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, “আমরা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারিনি, যা ইরানের জন্য বেশি নেতিবাচক।” তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র একটি চূড়ান্ত প্রস্তাব দিয়েছে, এখন দেখার বিষয় ইরান তা গ্রহণ করে কিনা।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যেতে ইসলামাবাদ ভবিষ্যতেও সহায়তা করবে।
ইরানের অবস্থান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এক বৈঠকেই চুক্তি হবে—এমন প্রত্যাশা শুরু থেকেই ছিল না। মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, একটি সেশনে সমঝোতা না হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।
তেহরানের বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের হামলার পর ক্লান্ত হলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা আশাবাদী। এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে দুই হাজারের বেশি ইরানি নিহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেন, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র সৎভাবে অংশ নিয়েছে এবং তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। তবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না—এই অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র অনড় রয়েছে।
এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই সফলতা অর্জন করেছে এবং চুক্তি হোক বা না হোক, তাতে খুব একটা পার্থক্য নেই।
লেবানন ও ইসরায়েল পরিস্থিতি
আলোচনার মধ্যেও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। এতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে লেবাননে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনার বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ দেখা গেছে।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লেবানন থেকে ছোড়া একটি ড্রোন তারা প্রতিহত করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
..