হোয়াইট হাউসের অনুমোদিত ‘ড্রাফট’ পোস্টে যুদ্ধবিরতির পথে শেহবাজ শরিফ

হোয়াইট হাউসের অনুমোদিত ‘ড্রাফট’ পোস্টে যুদ্ধবিরতির পথে শেহবাজ শরিফ
ছবি : দ্য ডেইলি স্টার

১০ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক সমাচার ডেস্ক : ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সাম্প্রতিক এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ওই পোস্টটি প্রকাশের পর দুইবার সম্পাদনা করা হয়। প্রথমবার পোস্ট করার সময় উপরে “Draft – Pakistan’s PM Message on X” লেখা ছিল, যা দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। সাধারণত একজন প্রধানমন্ত্রী নিজে এমনভাবে খসড়া উল্লেখ করে পোস্ট দেন না—এটি তার টিমের কাজ হলেও এমন শব্দচয়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানায়, পোস্টটি প্রকাশের আগে হোয়াইট হাউস সেটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দিয়েছিল। তবে এর অর্থ এই নয় যে, পুরো বার্তাটি সরাসরি হোয়াইট হাউস লিখে দিয়েছে—বরং এটি ইঙ্গিত করে যে, পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক যোগাযোগ ছিল অত্যন্ত সক্রিয়।

ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া আলটিমেটামের সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে শেহবাজ শরিফ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে পোস্ট করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিক আলোচনার সময় আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানান এবং ইরানকে একই সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার আহ্বান জানান।

পরবর্তীতে তিনি আরেকটি পোস্টে জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং ইসলামাবাদে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে পাঁচ সপ্তাহের সংঘাত সাময়িকভাবে থেমে যাওয়ার খবর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

আরও জানা যায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল, যাতে তারা ইরানকে আলোচনায় আনতে ভূমিকা রাখে। ধারণা ছিল, একটি মুসলিম-প্রধান প্রতিবেশী দেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এলে ইরান তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করতে পারে।

এ প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এবং পরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপরই শেহবাজ শরিফের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রকাশ করা হয়।

যদিও তিনি এটিকে পাকিস্তানের নিজস্ব উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন, খসড়া লেখাটি থেকে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই একে “যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি চিত্রনাট্য” বলেও আখ্যা দেন এবং পাকিস্তানের স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজে এই বার্তাটি লিখে দেননি। পাকিস্তান দূতাবাসও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।

যে উদ্যোগ থেকেই শুরু হোক না কেন, এটি কার্যকর হয়েছে—কারণ অল্প সময়ের মধ্যেই দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং আলোচনার পথ খুলেছে।

সূত্র : দ্য ডেইলি স্টার

 

..

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::