পটিয়া,চট্টগ্রাম: গাছের ডাল ও দড়ি দিয়ে কোনো রকমে বেঁধে রাখা হয়েছে শ্রেণীকক্ষের সিলিং ফ্যান। যেকোনো সময় ফ্যান শিক্ষার্থীদের মাথায় ছিড়ে পড়ে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শ্রেণীকক্ষের টিনের চালের কারণে তীব্র গরমে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। আবার বৃষ্টি হলে চাল দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণীকক্ষে অবস্থান করা হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। এমনই জীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দুটি কক্ষে বর্তমানে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এ দৃশ্য চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের বাণীগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। প্রায় ৫ বছর আগে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এখনো ঝুঁকি নিয়েই চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। বিদ্যালয় চত্বরে একটি একতলা পাকা ভবন থাকলেও সেখানে মাত্র দুটি কক্ষ রয়েছে। একটি অফিস হিসেবে এবং অন্যটি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯২ সালে বিদ্যালয়টি ‘রেজিস্টার্ড’ প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ২৬৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৭ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। যার মধ্যে একজন বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সূত্র বলছে, ২০২০ সালে বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের জন্য একটি বহুতল ভবন নির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে ৪ কোটি ৭৩ লাখ ৬১ হাজার ৩০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দ পাওয়ার পর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং পাইলিংয়ের কাজও সম্পন্ন হয়। তবে হঠাৎ করেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাবেক সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর সঙ্গে ঠিকাদারের বিরোধের কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত চলে যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিল্পী বিশ্বাস বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যেই পাঠদান চালাতে হচ্ছে। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণীকক্ষ ব্যবহার করছি। নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত এভাবেই চালাতে হবে। তবে পরিত্যক্ত কক্ষগুলো মেরামত করা গেলে ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।”
পটিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কর্মকার বলেন, “চলতি বছরে যোগদানের পর থেকেই বিদ্যালয়টির সমস্যার বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চারবার লিখিতভাবে অবহিত করেছি। বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। আসন্ন নির্বাচনে বিদ্যালয়টি ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে বিধায় আপাতত মেরামতের জন্য ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।”
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয়টিতে নতুন ভবন নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।”
ছবির ক্যাপশন: ৫ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও বাণীগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।
..