৮ এপ্রিল ২০২৬
মোঃ মিজানুর রহমান-সিনিয়র রিপোর্টার : আজ ৮ এপ্রিল বুধবার ভূমিকম্প–সহনশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে “ভূমিকম্প পূর্ব ও পরবর্তী প্রস্তুতি: আমাদের করণীয়” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর সোবহান বাগের গ্রীণ গার্ডেন রেসটুরেন্টে এই আয়োজন করা হয়।
আবাসন নিউজের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল ডিপার্টমেন্ট অফ রিয়েল এস্টেট (ডি আই ইউ) ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান, নির্বাহী পরিচালক, ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনভায়রনমেন্ট প্রোটেকশন ফোরাম (ইপিএফ)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন তাহমিনা রহমান।
বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ভূমিকম্পের মাত্রা ও ঘনত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নিয়ে এখনই সচেতন হওয়া জরুরি। গত বছরের নভেম্বর মাসে ৫.৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী। এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতের বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।
আলোচনায় আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরা হয়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তুরস্ক-সিরিয়া অঞ্চলে ৭.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়, যা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশের উত্তরে হিমালয় অঞ্চল, পূর্বে মিয়ানমার সাবডাকশন জোন এবং উত্তর-পূর্বে ডাউকি ফল্ট সক্রিয় থাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে।
ঢাকা শহরকে বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ মেগাসিটিগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল ভবন, সংকীর্ণ রাস্তা এবং বিল্ডিং কোড না মানার কারণে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
অতীতের ভূমিকম্পের উদাহরণ হিসেবে ১৮৯৭ সালের গ্রেট আসাম ভূমিকম্প, ১৯১৮ সালের শ্রীমঙ্গল ভূমিকম্প এবং ১৯৫০ সালের আসাম-তিব্বত ভূমিকম্পের কথা উল্লেখ করা হয়, যেগুলোর প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হয়েছিল।
বক্তারা আরও বলেন, বড় ভূমিকম্প হলে ব্যাপক প্রাণহানি, গ্যাসলাইন বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড এবং উদ্ধার কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ভূমিকম্প মোকাবিলায় করণীয় হিসেবে ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড মেনে চলা, নিয়মিত মহড়া আয়োজন, জরুরি প্রস্তুতি গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া ভূমিকম্প চলাকালীন নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ এবং পরবর্তীতে উদ্ধার কার্যক্রমে সচেতন ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে যথাযথ প্রস্তুতির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। উন্নত নগর পরিকল্পনা, প্রযুক্তিনির্ভর সতর্ক ব্যবস্থা এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণই হতে পারে এর কার্যকর সমাধান।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা জোর দিয়ে বলেন, “ভূমিকম্প হবেই—এটাই বাস্তবতা। এখন আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, কীভাবে আমরা এর জন্য প্রস্তুত থাকব।”
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন