৫ এপ্রিল ২০২৬
মুহাম্মাদ আরিফুর রহমান রণি-ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠির রাজাপুর সদরের টি এন্ড টি সড়ক সংলগ্ন খালের ওপর কালভার্ট নির্মাণ ও খাল খনন কাজ শেষ হলেও এর কোনো সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। কালভার্ট নির্মাণের সময় দেওয়া মাটির বাঁধ পুরোপুরি অপসারণ না করা এবং খালের একটি অংশে খনন কাজ বন্ধ থাকায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে বাইপাস সংলগ্ন টি এন্ড টি সড়কের কালভার্ট নির্মাণ কাজ শেষ হয়। নির্মাণের সুবিধার্থে খালের মাঝখানে মাটির একটি শক্তিশালী বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী কাজ শেষে বাঁধটি পুরোপুরি অপসারণ করার কথা থাকলেও, নামমাত্র কিছু মাটি সরিয়ে বাকি অংশ আগের মতোই ফেলে রাখা হয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, সামনেই বৈশাখ মাস। বৃষ্টি শুরু হলে নালা, খাল ও ডোবা দ্রুত পানিতে ভরে যাবে। তখন খালের মাঝখানের এই বাঁধটি পানির নিচে তলিয়ে যাবে এবং পরে মাটি সরানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। এতে খাল খননের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে এবং পানি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, রাজাপুর সদরের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম এই খালটির একাংশ (হরিমন্দিরের পূর্ব পাশ এলাকা) একটি মহলের বাধার কারণে আদৌ খনন করা সম্ভব হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ এই খালের প্রবাহ এভাবে বাধাগ্রস্ত থাকলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো শহরজুড়ে দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতা সৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য “আমরা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বারবার গিয়েছি। তারা কেবল আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হচ্ছে না। দ্রুত এই বাঁধ না সরালে আমাদের ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যাবে।”
ভুক্তভোগীরা জানান, এলজিইডি কর্মকর্তা অভিজিৎ মজুমদার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরীর কাছে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সরেজমিনে পরিদর্শন করলে এই অব্যবস্থাপনার বাস্তব চিত্র ফুটে উঠবে বলে এলাকাবাসী দাবি জানিয়েছেন।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে কালভার্টের বাঁধ অপসারণ এবং খালের অখননকৃত অংশ খনন করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রাজাপুরবাসী।
..