৪ এপ্রিল ২০২৬
সমাচার রিপোর্ট : বাংলাদেশে একসময় প্রায় নির্মূলের পথে থাকা হাম (Measles) আবারো ফিরে এসেছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জেলায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ‘ভাইরাল জিনোমিক্স অ্যান্ড ইনফেকশন ডাইনামিক্স ল্যাবরেটরি’ এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. গোলজার হোসেন জানিয়েছেন, টিকাদানের ঘাটতি, অপুষ্টি এবং অতিরিক্ত জনঘনত্ব হলো হাম রোগের দ্রুত বিস্তারের প্রধান কারণ।
হাম রোগের সংক্রমণ ও ঝুঁকি
অধ্যাপক গোলজার বলেন, “হাম হলো অত্যন্ত সংক্রামক বায়ুবাহিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা সক্রিয় থাকে। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে গড়ে ১৮ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারে।”
বিশেষত অপুষ্ট শিশু, ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতিপূর্ণ শিশু এবং টিকা নাও নেওয়া শিশুরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রেও হাম মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
লক্ষণ
সংক্রমণের ১০–১৪ দিনের মধ্যে দেখা দেয়:
জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া
চোখ লাল হওয়া
মুখের ভেতরে সাদা দাগ
শরীরে ফুসকুড়ি (র্যাশ)
গুরুতর ক্ষেত্রে হতে পারে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এনসেফালাইটিস বা অন্ধত্ব।
প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
ড. গোলজার জানান, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকা গ্রহণ। বাংলাদেশে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে হাম-রুবেলা (MR) টিকার দুই ডোজ দেওয়া হয়, যা প্রায় ৯৫% কার্যকর।
চিকিৎসার নির্দিষ্ট কোনো উপায় নেই, তবে যথাযথ পরিচর্যা ও সহায়ক চিকিৎসা রোগীর জটিলতা কমাতে সাহায্য করে।
করণীয়
অধ্যাপক ড. মিসেস মিনারা খাতুন দায়িত্বশীলদের জন্য করণীয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন:
নির্ধারিত সময়ে শিশুদের MR টিকা নিশ্চিত করা
টিকা নিয়ে ভুল ধারণা দূর করা
আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা
কাশি-হাঁচির সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা
দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
তিনি সতর্ক করেছেন, “এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম আবার মহামারির রূপ নিতে পারে। সচেতনতা, টিকাদান ও সম্মিলিত উদ্যোগ শিশুদের সুরক্ষা দিতে পারে।”
..