৩১ মার্চ, ২০২৬
মুহাম্মাদ আরিফুর রহমান রণি - ঝালকাঠি : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া মৎস্য বন্দরে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির এক বিশাল ‘করাতি হাঙর’। প্রায় ২৫ মোণ ওজনের এই মাছটি মঙ্গলবার ভোরে ট্রলারে করে বন্দরে আনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে উন্মুক্ত নিলামে মাছটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে ঘন কুয়াশা ভেদ করে একটি ট্রলার আমুয়া বন্দরে ভিড়তেই বদলে যায় চেনা দৃশ্যপট। জেলেরা যখন জাল থেকে বিশালদেহী এই প্রাণীটিকে ডাঙ্গায় তোলেন, তখন উৎসুক মানুষের ভিড়ে থমকে যায় বন্দরের কার্যক্রম। করাতের মতো দীর্ঘ ও ধারালো মুখ এবং বিশাল শরীরের এই ‘দানব’ মাছটি দেখতে স্থানীয়রা ভিড় জমান। শিশুদের মধ্যে বিস্ময় আর বড়দের চোখে দেখা দেয় কৌতূহল। স্থানীয় প্রবীণরা জানান, বহু বছর আগে পার্শ্ববর্তী মঠবাড়িয়ায় এমন মাছ দেখা গেলেও এত বিশাল আকারের মাছ এই প্রথম।
জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরের গভীর জলে মাছ ধরার সময় দীর্ঘ প্রচেষ্টায় বিরল এই মাছটি তাদের জালে ধরা পড়ে। বিশালাকৃতির এই মাছটিকে বাগে আনতে জেলেদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। স্থানীয়রা একে ‘খটক মাছ’ বা ‘করাতি হাঙর’ নামে চিনলেও গভীর সমুদ্রে এটি এখন বেশ দুষ্প্রাপ্য।
মাছটি ডাঙ্গায় তোলার পর আমুয়া মৎস্য বন্দরে শুরু হয় নিলাম। মুহূর্তেই দর বাড়তে থাকে। টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে স্থানীয় আড়তদার আব্দুল হাই সরদার সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় মাছটি কিনে নেন। পরে তিনি মাছটিকে অধিক লাভে বিক্রির উদ্দেশ্যে পিরোজপুরের পারেরহাট মৎস্য বন্দরে পাঠান। আমুয়া বন্দরের এক স্থানীয় জেলে বলেন ”সমুদ্র সবসময় একই রকম থাকে না। কখনো শূন্য হাতে ফিরি, আবার কখনো এমন বিরল নিদর্শনে কপাল খুলে যায়। এই মাছটি ধরা পড়া আমাদের জন্য এক দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল।”
মাছটি চলে গেলেও কাঁঠালিয়ার মানুষের মুখে মুখে ফিরছে এই দানবীয় মাছের গল্প। সমুদ্রের গভীরতা যে কত রহস্য আর বিস্ময় লুকিয়ে রেখেছে, ২৫ মোণের এই করাতি হাঙর যেন তার এক জীবন্ত প্রমাণ দিয়ে গেল। পরিবেশবিদদের মতে, এই প্রজাতির মাছ এখন বিলুপ্তপ্রায়, তাই গভীর সমুদ্রে এদের বিচরণ কমে আসছে।
..