সমাচার ডেস্ক : বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর অধীনে বাস্তবায়নাধীন “রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (RUTDP)” নিয়ে নানা অনিয়ম ও ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৫৯০১.২২ কোটি টাকা ব্যয়ের এই বৃহৎ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে ৪২৫৯.৬০ কোটি টাকা (সমপরিমাণ ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)।
প্রকল্পটির ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ২১ ডিসেম্বর ২০২৪ এবং ২২ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে তা কার্যকর হয়। ২০২৪ থেকে ২০৩০ মেয়াদে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৮ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে একনেক সভায় অনুমোদন পেলেও এক বছরের বেশি সময় পার হলেও প্রকল্পের অগ্রগতি কার্যত শূন্যের কোঠায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ নিয়ে বিশ্বব্যাংকও হতাশা প্রকাশ করেছে।
প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংক বা অন্যান্য দাতা সংস্থার অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পে অভিজ্ঞ একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার শর্ত রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. গোলাম ইয়াজদানীর নাম প্রস্তাব করা হয় এবং ১১ মার্চ ২০২৬ স্থানীয় সরকার বিভাগে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় তাকে নির্বাচিত করা হয়।
তবে জানা গেছে, মো. গোলাম ইয়াজদানী চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন। অর্থাৎ, তার চাকরির মেয়াদ রয়েছে মাত্র সাত মাস। এত স্বল্প সময়ের জন্য প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া পরিকল্পনা কমিশনের নীতিমালার পরিপন্থি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এলজিইডিতে বর্তমানে এমন অনেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রয়েছেন, যাদের চাকরির মেয়াদ আরও ৩ থেকে ৪ বছর বাকি রয়েছে। তাদের উপেক্ষা করে ইয়াজদানীকে মনোনয়ন দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া ইয়াজদানীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে গত ১২ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। পাশাপাশি ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ একটি জাতীয় দৈনিকে তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমেও এলজিইডির নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে তার প্রভাব থাকার অভিযোগ উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র সাত মাসের জন্য প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হলে প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়বে এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। কারণ, অল্প সময়ের মধ্যে কার্যকর নেতৃত্ব দেওয়া কঠিন, পাশাপাশি পুনরায় নতুন পিডি নিয়োগের প্রয়োজন হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি নদীভিত্তিক প্রকল্পে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মির্জা মো. ইফতেখার আলীর চাকরির মেয়াদ দুই বছর থাকায় তাকে প্রকল্প পরিচালক করা হয়নি। অথচ বর্তমান ক্ষেত্রে মাত্র সাত মাস মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও ইয়াজদানীকে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা নীতিগত অসঙ্গতির ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে এলজিইডি সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০০ কোটি টাকার মালামাল ক্রয়ের একটি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী প্রকৌশলী সিন্ডিকেট কমিশন বাণিজ্যের লক্ষ্যে স্বল্পমেয়াদি সময়ের জন্য ইয়াজদানীকে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে বসানোর চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. গোলাম ইয়াজদানীর দপ্তরে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন, তবে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অনীহা জানান।
সার্বিক পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, স্বচ্ছতা ও নীতিমালা অনুসরণ না করলে প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
..