নওগাঁর মান্দায় থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত সুমাইয়ার পাশে সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জামিলা আক্তার ফেন্সি

নওগাঁর মান্দায় থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত সুমাইয়ার পাশে সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জামিলা আক্তার ফেন্সি
সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জামিলা আক্তার ফেন্সি তার সাথে থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত সুমাইয়ার-ছবিঃ মাহবুবুজ্জামান সেতু

মাহবুবুজ্জামান সেতু-নওগাঁ জেলা প্রতিনিধ : নওগাঁর মান্দায় থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত ৮ বছর বয়সী শিশু সুমাইয়া জান্নাত জারিনের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জামিলা আক্তার ফেন্সি। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের গাড়িক্ষেত্র গ্রামে সুমাইয়ার বাড়িতে গিয়ে তিনি আর্থিক সহায়তা ও ঈদ সামগ্রী তুলে দেন।

আট মাস বয়স থেকেই মরণব্যাধি থ্যালাসেমিয়ার সঙ্গে লড়াই করছে সুমাইয়া। সে ওই গ্রামের শাহিন আলমের একমাত্র মেয়ে। শাহিন আলম পেশায় কনস্ট্রাকশন সুপারভাইজার হিসেবে হবিগঞ্জে কর্মরত থাকলেও মেয়ের চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে এখন নিঃস্ব প্রায়। সুমাইয়ার দাদা আনিসুর রহমান স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে সুমাইয়াকে রক্ত দিতে হয়। ঢাকার থ্যালাসেমিয়া হাসপাতালে রক্ত দেওয়া এবং ওষুধের পেছনে প্রতি মাসে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ব্যয় হয়। দীর্ঘ সাত বছর ধরে এই খরচ মেলাতে গিয়ে ভিটেমাটি ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই পরিবারটির। জরাজীর্ণ ঘরে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তারা।

সুমাইয়ার মা সানজিদা আক্তার সুমি বলেন, “আমার মেয়েটা ছোটবেলা থেকেই এই কষ্টের মধ্যে আছে। প্রতি মাসে যে টাকা লাগে, তা জোগাড় করতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়। আজ ফেন্সি আপা আসলেন, কিছু টাকা দিলেন। এতে আমাদের অনেক উপকার হলো। কিন্তু মেয়েটাকে পুরোপুরি সুস্থ করতে অনেক টাকার দরকার, যা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।”

থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত সুমাইয়া-ছবিঃ মাহবুবুজ্জামান সেতু

 

দাদা আনিছার রহমান বলেন, “মসজিদের ইমামতি করে যা পাই, তা দিয়ে নাতনির ওষুধ কিনব না কি সংসার চালাব, বুঝে উঠতে পারি না। ঘরবাড়ির অবস্থাও খুব খারাপ। বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে হয়তো আমার নাতনিটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।”

সম্প্রতি বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের একটি ভিডিওর মাধ্যমে সুমাইয়ার এই করুণ পরিস্থিতির কথা জানতে পারেন সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জামিলা আক্তার ফেন্সি। এরপরই তিনি মানবিক কারণে সুমাইয়ার বাড়িতে ছুটে যান।

সহায়তা প্রদান শেষে জামিলা আক্তার ফেন্সি বলেন, “অসহায় শিশু সুমাইয়ার পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। এই সহায়তা খুবই সামান্য। তবে আমাদের একটি পরিবহন ব্যবসা আছে। ঢাকা যাতায়াতের ক্ষেত্রে সুমাইয়ার পরিবারকে বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।” তিনি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

এ সময় তার সঙ্গে স্থানীয় মহিলা নেত্রীবৃন্দ এবং সুমাইয়ার স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

..

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::