আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ায় মানবিক ভিসা পাওয়ার পর সেখানে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইরানের নারী ফুটবল দলের প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্য। তবে তাদের মধ্যে আরও তিনজন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন।
মানবাধিকারকর্মীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া তিনজন হলেন জাহরা সোলতান মেশকেহকার, মোনা হামুদি এবং জাহরা সারবালি।
গত ২ মার্চ দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে এশিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ইরানের জাতীয় সংগীত চলাকালে দলটির খেলোয়াড়রা নীরব থাকায় দেশটিতে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। ওই ঘটনার পর তাদের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এক বিবৃতিতে জানান, খেলোয়াড়দের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের যথাসম্ভব সুযোগ দিয়েছে।
তিনি বলেন, “অস্ট্রেলিয়ানদের গর্ব করা উচিত যে আমাদের দেশেই এই নারীরা এমন একটি পরিবেশ পেয়েছেন যেখানে তাদের সামনে প্রকৃত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ছিল এবং সরকারি কর্তৃপক্ষ তাদের সহায়তার জন্য কাজ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, সরকার সুযোগ ও সহায়তা দিতে পারে, তবে খেলোয়াড়রা যে জটিল পরিস্থিতির মধ্যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, সেই বাস্তবতা পুরোপুরি বদলে দেওয়া সম্ভব নয়।

ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)–ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি প্রথম এ খবর প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “ইরানের নারী জাতীয় ফুটবল দলের দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনা এই দলের বিরুদ্ধে শত্রুদের পরিকল্পনাকে পরাজিত করেছে।” একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া সরকারকে “ট্রাম্পের কৌশলের অংশ” বলেও অভিযোগ করা হয়।
তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই তিনজন বর্তমানে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে যাওয়ার পথে রয়েছেন। সেখানে দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগ দিয়ে তারা পরিবারের কাছে এবং মাতৃভূমিতে ফিরে যাবেন। অস্ট্রেলিয়ায় দেওয়া আশ্রয়ের আবেদনও তারা প্রত্যাহার করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, তারা “মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, ব্যাপক প্রচারণা ও নানা প্রলোভন” প্রতিরোধ করেছেন।
প্রথমে সাতজন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্তের পর এখন মাত্র তিনজনই সেখানে অবস্থান করছেন। এর আগে বুধবার আরেক খেলোয়াড়ও একই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইরানে ফেরার ঘোষণা দেন।
হামুদি ও সারবালি ছিলেন সেই পাঁচজনের মধ্যে, যারা গোল্ড কোস্টে দলের হোটেল থেকে বের হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যান। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ তাদের একটি সেফ হাউসে নিয়ে যায়।
দলের টেকনিক্যাল স্টাফ সদস্য জাহরা সোলতান মেশকেহকার পরদিন আশ্রয় চাওয়া আরও দুই নারীর একজন ছিলেন। অন্যজন মোহাদ্দেসে জোলফি আশ্রয়ের অনুমতি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন এবং ইতোমধ্যে দলে ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে।
অস্ট্রেলিয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল যে জাতীয় সংগীত না গাওয়ার ঘটনায় খেলোয়াড়রা দেশে ফিরলে তাদের বা তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের এক রক্ষণশীল ভাষ্যকার খেলোয়াড়দের “যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক” আখ্যা দিয়ে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন।
তবে টুর্নামেন্টের শেষ দুই ম্যাচে ইরানের নারী দল জাতীয় সংগীত গেয়েছিল। সমালোচকদের ধারণা, সরকারের কর্মকর্তারা দলের সঙ্গে থাকায় তাদের সংগীত গাইতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এশিয়ান কাপ থেকে বিদায় নেওয়ার দুই দিন পর মঙ্গলবার রাতে ইরানের বাকি খেলোয়াড়রা অস্ট্রেলিয়া ছেড়ে দেশে ফিরে যান।
সূত্র : বিবিসি
..