১৩ মার্চ, ২০২৬
মাহবুবুজ্জামান সেতু-নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের বিনোদপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে ৩ বছর ১৯ দিনের শিশু নাঈম ও পাঁচ বছর বয়সী আরাফাতের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, একটি ধর্ষণ মামলার ভিডিও ধারণ ও তা ভাইরাল হওয়ার ঘটনার জের ধরে প্রতিশোধমূলকভাবে দুই শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। তবে ঘটনার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশ ভুক্তভোগী পরিবার।
নিহত নাঈম ওই গ্রামের বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্থানীয় ভরাডুবা আক্তার হামিদ সিদ্দিকী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক। তার বড় ছেলে নাহিদ ইসলাম সাগর (১৪) নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।
পরিবারের দাবি, গত ১৬ জুলাই ২০২৫ সালে একই গ্রামের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশরুমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এ সময় ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে নিহতের বড় ভাই নাহিদ ইসলাম সাগর। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পরিবারের অভিযোগ, ওই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের বিরোধ শুরু হয় এবং বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্ষণকাণ্ডের প্রায় ৪৫ দিন পর ১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে ৩ বছর ১৯ দিনের শিশু নাঈম বাড়ি থেকে বের হয়। তখন তার হাতে একটি লাল প্লাস্টিকের হাতপাখা ছিল। সে প্রতিবেশী আইজুল হকের পাঁচ বছর বয়সী নাতি আরাফাতের সঙ্গে খেলতে যায়। অধিকাংশ সময় তারা একসঙ্গেই খেলাধুলা করত।
পরিবারের অভিযোগ, এ সময় অভিযুক্তরা নাঈমকে বাড়ির ভেতরে ডেকে নিয়ে যায় এবং সেখানে গলা টিপে হত্যা করে। ঘটনাটি খেলার সঙ্গী আরাফাত দেখে ফেলায় তাকেও হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে দুই শিশুর মরদেহ পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় এক নারী পুকুরে ঘাস ধুতে গিয়ে পানিতে ভাসমান অবস্থায় শিশু দুজনকে দেখতে পান। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে। পরে নাঈমকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতদের পরিবারের দাবি, নাঈমের গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তার পেটে পানিও পাওয়া যায়নি। এতে তাদের সন্দেহ, শিশু দুজনকে হত্যা করার পর পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার দিন সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির প্যান্ট ভেজা অবস্থায় দেখা যায় বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়।
পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে থানায় গিয়ে পুলিশের কোন সহযোগীতা না পাওয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।(মামলা নং -৯০৪ নম্বর)
বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। তদন্তের দায়িত্বে থাকা পিবিআই এখনো তাদের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়নি। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত তারিখে প্রতিবেদন না দেওয়ায় মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী ১৫ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিহতদের পরিবার বলছে, তারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম করছেন। তাদের অভিযোগ, মামলার কয়েকজন আসামি এখনও পলাতক।
নিহত নাঈমের মা বলেন,
“আমার ছোট শিশুকে ও আরাফাতকে যারা হত্যা করেছে, আমরা তাদের বিচার চাই। আমরা গরিব মানুষ, কিন্তু ন্যায়বিচার না পেলে শান্তি পাব না।”
..