১৩ মার্চ, ২০২৬
মুহাম্মাদ আরিফুর রহমান রণি-ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠি পুলিশ লাইন্সের রেশন সেন্টার থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগে চারজন পুলিশ পরিদর্শকসহ (ইন্সপেক্টর) ১১ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
২৫২টি ভুয়া রেশন কার্ড তৈরি করে প্রায় ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার ৮৮৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুদক পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করা হয়।দুদকের সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন: সাবেক মেস ম্যানেজার মো. আলাউদ্দিন, পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) আরিফ মাহমুদ, মো. আল মামুন, মো. রেজাউল করিম ও কাজী রাজিউল জামান। এছাড়া কনস্টেবল মো. আতিউর রহমান, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. মেহেদী হাসান, অফিস সহকারী মো. তৌফিক এলাহী, গুদামদার মো. জহির উদ্দিন এবং বিক্রয় সহকারী সৈয়দ জসিম উদ্দিনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
এজাহারের বিবরণ: মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে ঝালকাঠি পুলিশ লাইন্স রেশন সেন্টারে এই বিশাল অংকের দুর্নীতি সংঘটিত হয়। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২৫২টি ভুয়া রেশন কার্ড তৈরি করেন। এসব কার্ডের বিপরীতে সরকারি রেশন সামগ্রী উত্তোলন দেখিয়ে তা খোলা বাজারে বিক্রি বা অন্য উপায়ে মোট ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার ৮৮৫ টাকা আত্মসাৎ করেন।
দুদক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, ‘অভিযুক্তরা সরকারি কর্মচারী হয়েও ক্ষমতার অপব্যবহার, জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে। তদন্তে আরও কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’
এ বিষয়ে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, মামলায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত রয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুলিশ বিভাগ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উক্ত ঘটনাটি জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, সরকারি সম্পদের এই লুটপাটের সাথে জড়িত প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।