শাহীন রেজা টিটু – ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ভিজিএফ কার্ড বিতরণে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ইউনিয়নের তিন নারী সদস্য (মেম্বার) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-র কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ওই ইউনিয়নের নারী সদস্য রওশনা বেগম, জোহরা খাতুন ও ফাতেমা বেগম নবীনগর ইউএনও মাহমুদুল হাসানের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউএনও জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারের পক্ষ থেকে ঈদ উপলক্ষে দরিদ্র, ভূমিহীন, দিনমজুর ও অসহায় পরিবারগুলোর সহায়তায় ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। কিন্তু বীরগাঁও ইউনিয়নে এ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগে বলা হয়, চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ইউনিয়ন পরিষদের তিন নারী সদস্যকে সম্পূর্ণভাবে পাশ কাটিয়ে নিজের পছন্দের লোকজনের মধ্যে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করছেন। এতে সংশ্লিষ্ট নারী সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন এবং তাদের কাছে জবাব দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
অভিযোগকারী তিন নারী সদস্য বলেন, “চেয়ারম্যান শুরু থেকেই ভিজিএফ কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারী আচরণ করে আসছেন। আমাদের কাউকে কোনো তথ্য না দিয়ে তিনি তার পছন্দের লোকদের মধ্যে কার্ড বিতরণ করে যাচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়ে আমরা ইউএনও স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, “প্রথমে আমাদের জানানো হয়েছিল প্রায় দুই হাজার ভিজিএফ কার্ড পাওয়া যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাতে এসেছে মাত্র ২০৮টি কার্ড। এতে প্রতি ওয়ার্ডের পুরুষ মেম্বারদেরই চাহিদা অনুযায়ী কার্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি, সেখানে মহিলা মেম্বারদের দেওয়ার সুযোগ কোথায়? তাছাড়া রাজনৈতিক তদ্বিরেও কিছু কার্ড দিতে হয়।”
এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান দৈনিক সমাচারকে বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী রবিবার (১৫ মার্চ) চেয়ারম্যানকে আমার কার্যালয়ে তলব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ পাবে বলে স্থানীয় জনগণ আশা করছেন।