সমাচার ডেস্ক: সম্পন্ন হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে। খুব শীঘ্রই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন তারেক রহমান।
বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস যমুনায় বাস করছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ‘গণভবন’কে করা হয়েছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর। ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান কোথায় থাকবেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, তারেক রহমান যদি বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার বাসায় উঠতে চান তাহলে তাকে অপেক্ষা করতে হবে অন্তত দুই মাস। প্রধান উপদেষ্টা সে বাসা ছাড়ার পর সেখানে উঠতে পারবেন তিনি। তবে বাসাটির চুনকামসহ আনুষঙ্গিক কাজে সব মিলিয়ে কিছুটা সময় লেগে যাবে। তবে এই সময়ের জন্য বাড়িভাড়া বাবদ মাস প্রতি এক লাখ টাকা করে পাবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর আবাসনসংক্রান্ত বিধানে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি সরকারি বাসভবন থাকবে, যা সরকারি ব্যয়ে সজ্জিত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। যদি প্রধানমন্ত্রী নিজের বাড়িতে বা সরকারি বাসভবন ছাড়া অন্য কোনো বাড়িতে থাকার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তিনি প্রতি মাসে এক লাখ টাকা বাড়িভাড়া পাবেন। সেই বাড়িটি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মর্যাদার উপযোগী করে সজ্জিত করা হবে এবং এর ব্যয় সরকার বহন করবে। সেখানে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিফোন ইত্যাদি সরবরাহের সব ব্যয় সরকার বহন করবে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী যদি নিজের বাড়ি বা সরকারি বাসভবন ছাড়া অন্য কোনো বাড়িতে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তিনি প্রতিবছর ওই বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাড়িভাড়া ভাতার তিন মাসের সমপরিমাণ অর্থ পাবেন। যদি প্রধানমন্ত্রী নিজের বাড়িতে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন এবং সেই বাড়িতে গার্ডদের থাকার জন্য নির্ধারিত কোনো শেড না থাকে, তবে সরকার সেখানে একটি অস্থায়ী গার্ড শেড নির্মাণ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর পদত্যাগের পর পরবর্তী এক মাস পর্যন্ত সরকারি বাসভবনে বাস করতে পারবেন। এ সময়ও তাঁর ওপর কোনো ব্যয় চাপানো হবে না।
গতবছরের ৭ জুলাই নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্ধারণের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামকে প্রধান এবং স্থাপত্য অধিদপ্তর, সংসদ সচিবালয় এবং এসএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সদস্য করে কমিটি গঠন করা হয়। তাঁরা কয়েক দফায় বৈঠক করে প্রথমে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একীভূত করা সেখানে এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন স্থাপনে প্রতিবেদন জমা দেন।
তবে সেপ্টেম্বরে সংসদ ভবন চত্বরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকে একীভূত করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তখন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কোথায় থাকবেন- সে ব্যাপারে প্রশ্ন উঠে? এছাড়া সংসদ চলাকালে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ডিসেম্বরে সে সিদ্ধান্ত বাতিল হয়।
পরে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে- সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এদিকে গেল জানুয়ারিতে গণভবনের পাশে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের নকশা চূড়ান্ত করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তবে সে ভবন তৈরি করতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে যমুনা শহরের মধ্যবর্তী জায়গায় হওয়ায় সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর চলাচল নগরবাসীর জন্য দুর্ভোগ ডেকে আনবে। তাছাড়া সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দূরত্বও বেশি যার ফলে যাতায়াতে তীব্র যানজট তৈরি হতে পারে।
এছাড়া মিন্টো রোডে বাংলো আছে। দুটি প্লট একত্র করেও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে যানজটের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। তাই শেরেবাংলানগরের কোথাও করাই সবচেয়ে উপযোগী বলে জানিয়েছেন তারা।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টা যেখানে আছেন সেটিই আপাতত মনে করছি হতে পারে (প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন), আমি শিউর না। প্রাইম মিনিস্টার নিজেই সিদ্ধান্ত নিবেন ওনার জন্য কোনটি সুইটেবল হবে।
তবে আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ‘পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন’ সে ব্যাপারে সভায় কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান।
সব মিলিয়ে মায়ের স্মৃতি বিজড়িত গুলশান নাকি হেয়ার রোডের যমুনা- কোথায় থাকবেন তারেক রহমান? সে সিদ্ধান্ত এখন তার একান্ত।
..