গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) সংসদীয় আসনে চরম উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন আসনটির দুর্গম এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু করতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুন, জামায়াতের মু. শাহ আলম এবং ইসলামী আন্দোলনের মু. আবু বক্কর সিদ্দিকী।
তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ আসনে নুরুল হক নুর ও হাসান মামুনের কর্মী-সমর্থকদের ঘরে অগ্নি সংযোগের পাশাপাশি কম বেশি প্রায় ১৫ থেকে ২০টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সহিংসতার ঘটনায় দুই পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি ৫টি মামলা হয়। এছাড়াও নূর ও হাসান মামুনের উস্কানিমূলক বক্তব্যের ঘটনায় জেলা রিটার্নিং কার্যালয় থেকে তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় বিধি নিষেধ জারি করা হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান বরিশালের সিভিল জজ সাব্বির মো. খালিদ দুই প্রার্থীকে নোটিশ দেন। প্রশাসনের কাছ থেকে কয়েকবার সতর্ক নোটিশ দেয়ার পরেও উভয় পক্ষের উত্তেজনা কমেনি।
এসব বিবেচনা মাথায় রেখে গত রবিবার (৮ফেব্রুয়ারি) নুরুল হক নুরের নিজ এলাকা চরবিশ্বাস ও চরকাজল ইউনিয়নে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। অন্যদিকে হাসান মামুনের প্রভাবাধীন দশমিনা উপজেলার অর্ন্তগত চরবোরহান ইউনিয়নের দুটি ভোট কেন্দ্রে জন্য অতিরিক্ত এক প্লাটুন সেনাবাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে। জেলা রির্টানিং কার্যালয় সূত্র জানায়, একটি আসনে চার প্লাটুন সেনাবাহিনী মোতায়ন করা হলেও পটুয়াখালী-৩ আসনের দুটি উপজেলায় ১০ প্লাটুন সেনাবাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে।
জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড.মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পটুয়াখালী-৩(গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বেশ কয়েকটি সহিংসতার ঘটনায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ফলে এ আসনে নির্বাচনকালীন সময়ে নির্ধারিত বাহিনীর পাশাপাশি অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে। এ আসনের প্রতি বিশেষ নজর রাখছি।’
..