সমাচার ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সরজিস আলমের নথিপত্রে আয়ের তথ্যে গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) হয়েছেন মো. আক্তার হোসেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
আক্তার হোসেন বলেন, ‘পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সরজিস আলমের হলফনামায় সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেবে কমিশন। বস্তুনিষ্ঠ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে।’
এদিকে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ডেইলি স্টারের (বাংলা) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া নথিপত্রে আয়ের তথ্যে গরমিল পাওয়া গেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী সারজিস আলমের। পঞ্চগড়-১ আসনের এই প্রার্থীর হলফনামায় প্রদর্শিত আয়ের সঙ্গে আয়কর রিটার্নের তথ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করে বলা হয়, হলফনামায় ২৭ বছর বয়সী সারজিস নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বার্ষিক ব্যবসায়িক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ টাকা। অথচ তার ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্নে আয় উল্লেখ করা হয়েছে ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা, যা হলফনামার তথ্যের তিন গুণের বেশি। আয়ের দুই রকম তথ্যই হলফনামায় দিয়েছেন তিনি।
শুধু আয় নয়, সারজিসের সম্পদের তথ্যেও অসংগতি রয়েছে। তিনি আয়কর রিটার্নে ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকার সম্পদের কথা উল্লেখ করলেও হলফনামার সম্পদ বিবরণীতে অনেক কম সম্পদের হিসাব দিয়ছেন।
হলফনামা অনুযায়ী, সারজিসের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা। এর মধ্যে নগদ ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা, ব্যাংকে ১ লাখ টাকা এবং ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাব রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে উপহার হিসেবে পাওয়া ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ কৃষিজমির কথা উল্লেখ করেছেন তিনি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকা।
২০২৫-২৬ করবর্ষে তিনি ৫২ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।
নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণীতে সারজিস উল্লেখ করেছেন, চারজন শুভাকাঙ্ক্ষীর (আত্মীয় নন) কাছ থেকে তিনি ১১ লাখ টাকা উপহার হিসেবে পাওয়ার আশা করছেন। এ ছাড়া এক ব্যক্তির কাছ থেকে আরও ২ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
নথিপত্র অনুযায়ী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও চাচা-মামাদের কাছ থেকেও তিনি উপহার হিসেবে টাকা পাচ্ছেন। তবে ইসি ওয়েবসাইটে আপলোড করা স্ক্যান কপিতে টাকার প্রথম অঙ্কটি অস্পষ্ট থাকায় সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি।
দৃশ্যমান সংখ্যা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, প্রত্যেকের কাছ থেকে তিনি অন্তত ১ লাখ টাকা করে পাচ্ছেন। এ ছাড়া শ্যালকের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে অন্তত ১ লাখ টাকা নেওয়ার তথ্য দিয়েছেন তিনি।
..