১২ এপ্রিল ২০২৬
সমাচার রিপোর্ট ঃ ২৪-এর ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়—ক্ষমতার কেন্দ্র কি পুরোনো ধারায় চলবে, নাকি সত্যিকারের পরিবর্তন আসবে শাসনপদ্ধতিতে? দীর্ঘ সময় ধরে শাসনব্যবস্থায় দুর্নীতি, তদবির, পরিবারতন্ত্র ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে আলোচনা ছিল, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি ঠেকানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সরকারপ্রধান তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনে শৃঙ্খলা আনতে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানা গেছে। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের কাজ হলো সংশ্লিষ্টদের কর্মকাণ্ড, সম্পদ ও ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা পর্যালোচনা করে নিয়মিত প্রতিবেদন তৈরি করা।
সূত্রগুলো জানায়, নির্দিষ্ট সময় পরপর এই প্রতিবেদন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও একাধিক সংসদ সদস্যের কিছু কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—ক্ষমতায় থাকলেই দায়মুক্তি নয়, বরং জবাবদিহি আরও জোরদার হবে।
এছাড়া সচিবালয়কেন্দ্রিক তদবির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে একটি তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারা মন্ত্রীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন এবং তাদের পটভূমি কী—এসব বিষয়ও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক করা হচ্ছে।
নজরদারির আওতায় যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, পরিবারতন্ত্র, নিয়োগে অনিয়ম এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া।
কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অভিযোগও সামনে এসেছে বলে জানা গেছে, যেখানে প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়া, সরকারি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ এবং ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রশাসনিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা আনতে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সরকারি দপ্তরে অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমাতে তাদের নির্দিষ্ট দিনে দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।
তবে এই নজরদারি ব্যবস্থা কতটা নিরপেক্ষভাবে ও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। কারণ নতুন ব্যবস্থার সফলতা অনেকটাই নির্ভর করছে এর বাস্তব প্রয়োগের ওপর।
..