৭ এপ্রিল ২০২৬
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : ৪৯ নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর বাসভবনে ‘টর্চার সেল’ বানিয়ে দলীয় ভিন্নমত পোষণকারী নেতাকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এমপির বাসভবনে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনায় মান্দায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা এবং রাজপথে পাল্টাপাল্টি শোডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বিকেলে প্রসাদপুর বাজারের চৌরাস্তা মোড় এলাকা থেকে উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও ভালাইন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, এমপির অনুসারী ও কথিত বাহিনী প্রধান মোহাম্মদ আলী এবং গোল্ডেনসহ ১০-১২ জন ক্যাডার তাকে প্রকাশ্যে পেটাতে পেটাতে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে এমপির বাসভবনের নিচতলায় নিয়ে যায়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত নেতা আবুল কালাম আজাদ জানান, “আমি পার্টি অফিসে যাওয়ার পথে তারা আমাকে ধরে টেনে-হেঁচড়ে এমপির বাড়ির নিচতলার একটি গোপন কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে মোহাম্মদ আলী আমাকে বলতে থাকে যদি এই কমিটির লোকজনের সঙ্গে কর্মসূচি পালন করি, তবে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।

এরপর তারা আমাকে অমানুষিক নির্যাতন করে রাস্তার ওপর ফেলে রেখে যায়।” পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে নওগাঁ শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা বিএনপির একটি অংশ। সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুলের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন খান।
তিনি অভিযোগ করেন, এটি কোনো দলীয় আধিপত্য বিস্তারের জন্য পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হচ্ছে। ইতিপূর্বে সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদলের ওপরও একইভাবে হামলা চালানো হয়েছিল।
মুঠোফোনে যুক্ত হয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মতীন বলেন, “এমপি ইকরামুল বারী টিপু ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করেছেন। আমরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে এর বিচার চাই।”
সব অভিযোগ অস্বীকার করে সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, “সংসদ অধিবেশন চলায় আমি বেশ কয়েক দিন ধরে ঢাকায় আছি। এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আর বলা হচ্ছে আমার এপিএস মারধর করেছে প্রকৃতপক্ষে আমার কোনো এপিএস বা পিএস নেই।” তিনি আরও দাবি করেন, দলীয় কলহ থাকলে তার বিচার জেলা বা উপজেলা বিএনপি করবে।
মারামারির ঘটনা সত্য হলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। তার মতে, নির্বাচনের আগে থেকেই বিএনপির একটি অংশ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এমপির বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা প্রোপাগান্ডা’ ছড়ানোর অভিযোগ তুলে সোমবার সন্ধ্যায় মান্দার ফেরিঘাট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদলের একটি অংশ। ছাত্রদল নেতা রিসালাত ই সাজিদের নেতৃত্বে মিছিলে বক্তারা এমপির বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে সাজানো বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে, নির্যাতনের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে আজ মঙ্গলবার বিকেলে প্রসাদপুর বাজারে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মকলেছুর রহমান মকে।
এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মান্দায় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
মান্দা এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় না আনলে রাজনৈতিক এই সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুমার বিশ্বজিৎ সরকার ও শামসুল ইসলাম বাদল, কোষাধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা, ভারশোঁ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী কাবুল, কাঁশোপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিদুজ্জামান সোহান, কসব ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি লিয়াকত আলী মাষ্টার, মান্দা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি হামিদুর রহমান শাহানা,কালিকাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ,গণেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মিঠন প্রমুখ।
..