৬ এপ্রিল ২০২৬
আন্তর্জাতিক সমাচার ডেস্ক : গত কয়েকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এই সংঘাত এখন কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিতেই সীমাবদ্ধ নয়; ইরানের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, এর প্রভাব সরাসরি মার্কিন মূল ভূখণ্ডেও পড়তে পারে, যেমন ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ ইয়র্ক এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে।
৫ এপ্রিল, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরান যদি নির্ধারিত সময়ে হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তবে তারা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালাবে। ট্রাম্প বলেন, “মঙ্গলবার হবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ব্রিজ ধ্বংসের দিন। যদি ‘পাগলামি’ বন্ধ না করা হয়, নরকের আগুনে জ্বলতে হবে।”
ইরান জানিয়েছে, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি বাস্তবায়ন করা হলে যুদ্ধের আগুন সরাসরি মার্কিন ভূখণ্ড পর্যন্ত পৌঁছাবে। ইরান কেবল ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা বলছে না; তারা এমন পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিয়েছে যা আগে দেখা যায়নি।
ইরানি সামরিক কর্মকর্তা আলী আবদাহি আলিয়াবাদী ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘বেপরোয়া’ ও ‘হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তেহরানের একটি বিশাল বিলবোর্ডে ইরানের জেলেরা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমানকে অবরুদ্ধ করার ছবি প্রদর্শিত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরান আরও এক প্রণালী ‘বাব আল-মান্দেব’ বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে, যা বিশ্বের প্রায় ১৪ শতাংশ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে ইউরোপ ও এশিয়ার সরবরাহ চেইনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, তারা আলোচনার পথ খোলা রাখলেও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রয়োজনে আমরা বোমার মাধ্যমে আলোচনা চালাব।” অন্যদিকে ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতি মানতে নারাজ; তারা চায় ক্ষতিপূরণ ও মার্কিন বাহিনীর স্থায়ী প্রস্থান।
বিশ্ব এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে। ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার সাথে সাথে নতুন সংঘাত শুরু হতে পারে, যা বৈশ্বিক প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
..