৫ এপ্রিল ২০২৬
ফরহাদ রহমান-টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি : প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন দ্বীপ-এর আকাশে ড্রোন সদৃশ এক রহস্যময় আলোকিত বস্তু দেখা যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা। কেউ একে মিয়ানমারের ড্রোন বলে দাবি করছেন, আবার অনেকে মনে করছেন এটি সাধারণ কোনো ড্রোন নয়—বরং আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র বা শুকতারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর জেটিঘাট সংলগ্ন আকাশে সবুজাভ আলো বিচ্ছুরণকারী একটি বস্তু ভেসে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাটি মুহূর্তেই দ্বীপজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় নানা মতভেদ ও বিশ্লেষণ।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দ্বীপের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট কেফায়েত উল্লাহ। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, আকাশে দেখা বস্তুটি মিয়ানমারের ড্রোন হওয়ার সম্ভাবনা কম; বরং এটি স্থানীয় বাসিন্দা বা পর্যটকদের ব্যবহৃত কোনো ড্রোন হতে পারে। কনটেন্ট তৈরির উদ্দেশ্যে এ ধরনের ড্রোন ব্যবহারের ঘটনা দ্বীপে নতুন নয় বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললেও তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে উল্লেখ করেন।
দ্বীপের আরেক বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার জলসীমায় নজরদারি জোরদার রাখতে প্রায়ই বাংলাদেশ নৌবাহিনী তাদের জাহাজ মোতায়েন করে এবং প্রয়োজনে ড্রোন ব্যবহার করে থাকে। তার মতে, আকাশে দেখা বস্তুটি মিয়ানমারের নয়, বরং প্রশাসনের নজরদারি কার্যক্রমের অংশ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অতীতেও এ ধরনের কার্যক্রম একাধিকবার লক্ষ্য করা গেছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, সাধারণত জেটিঘাট এলাকায় নৌবাহিনীর জাহাজ অবস্থান করলে তবেই এ ধরনের ড্রোন দেখা যায়; অন্য সময়ে সেগুলো দৃশ্যমান হয় না।
অন্যদিকে, সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, তিনি টেকনাফে অবস্থানকালে একাধিক সাংবাদিকের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, অনেকেই এটিকে মিয়ানমারের ড্রোন বলে ধারণা করছেন। তবে তিনি নিজেও এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।
প্রশাসনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আকাশে শুকতারার মতো একটি উজ্জ্বল বস্তু কিছু সময় দৃশ্যমান থাকার পর অদৃশ্য হয়ে যায়। তবে মিয়ানমারের কোনো ড্রোন দেখা গেছে—এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। :
পঞ্চগড়ের ধাক্কামারা ইউনিয়নে ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে শাহিন আলম (৩০) নামে এক মেকানিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকাল প্রায় ৫টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের গোলচত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাহিন আলম তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের নারায়ণগঞ্জ গ্রামের জয়ানুল হকের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে বুড়াবুড়ি বিএনপি যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পঞ্চগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রবিবার বিকালে শাহিন আলম সড়কে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়ার কাজ করছিলেন। কাজের একপর্যায়ে খুঁটির ওপর থাকা উচ্চ ভোল্টেজের তারে জড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।