২৯ মার্চ ২০২৬
সমাচার ডেস্ক : ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ পদকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে একই পদে দায়িত্ব পালন, নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং প্রশাসনিক নীরবতা—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন নতুন করে তদন্তের মুখে।
জানা যায়, মো. সিরাজুল ইসলাম প্রায় ২১ বছর ধরে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের দায়িত্ব পালন করছেন, যদিও তার নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ না করেও তিনি প্রথমে স্থপতি হিসেবে নিয়োগ পান এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হন।
১৯৯৭ সালের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্থাপত্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি ও নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার শর্ত থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, এসব শর্ত পূরণ না করেই তিনি পদটি লাভ করেন। পরে ২০০৪ সালে তাকে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়।
কিন্তু প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের পরও তিনি দীর্ঘদিন একই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, যদিও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নতুন দাপ্তরিক আদেশের তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিগত সময়গুলোতে তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম এবং বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিপুল অর্থ বরাদ্দ থাকলেও সেসব প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ থাকায় বিষয়টি আরও আলোচিত হয়। তবে এত অভিযোগের পরও দীর্ঘদিন তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি ডিএসসিসির অভ্যন্তরীণ একটি তদন্তে এই দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব পালনের বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তাকে পদোন্নতির সুপারিশও করা হয়েছে। এ ঘটনায় পদটি ঘিরে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে বিষয়টি আনুষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। আগামী ৬ এপ্রিল তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য সিরাজুল ইসলামকে তলব করা হয়েছে।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিরাজুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার বক্তব্য, তিনি নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করছেন এবং কেন এতদিন তাকে একই পদে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষই ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া জরুরি। এতে শুধু একটি পদ নয়, বরং সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়টিও স্পষ্ট হবে।
..