শাহীন রেজা টিটু-ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের উরখুলিয়া গ্রামে গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে মরহুম লাল মিয়া মাস্টারের পরিবারের ওপর হামলা ও গ্রাম ছাড়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন।
অভিযোগে জানা যায়, এলাকার প্রভাবশালী আবদুল আওয়ালের নির্দেশে স্থানীয় রফিকুল ইসলাম মনা মেম্বার ওই পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার হুমকি দেন। পরবর্তীতে তার সমর্থকরা বাড়িতে হামলা চালায় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
রবিবার (২৯ মার্চ) মরহুম লাল মিয়া মাস্টারের ছেলে হারুনুর রশিদ, প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম, কবির হোসেন, কামরুল হোসেন ও জামাল হোসেন সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।
প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে বসবাস করছেন। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত ২৬ মার্চ গ্রামের বাড়িতে আসেন তিনি ও তার ভাইয়েরা। এর পরপরই তাদের ওপর চাপ ও হুমকি শুরু হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাদের পরিবারকে টার্গেট করা হয়েছে। বর্তমানে তারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে রফিকুল ইসলাম মনা মেম্বার ও আওয়াল গ্রুপের লোকজন জাহাঙ্গীর আলম সরকারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মিজানুর রহমান (৪০), জিয়াউর রহমান (৪৫) ও আক্তার হোসেন (৪০)-কে মারধর করে। পরে তারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন।এ ঘটনায় বাছির মিয়ার নেতৃত্বে ফিরোজ, তাজুল, রুবেল, করিম, সামছু মিয়া, সিদ্দিক মিয়া ও আবুল কালাম হামলায় অংশ নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, ঈদ বা সামাজিক অনুষ্ঠানে বাড়িতে এলে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। এমনকি গ্রামের অন্যদের সঙ্গে মেলামেশাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম সরকারের বাড়ির ভেতর দিয়ে রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। উরখুলিয়া গ্রাম কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম জানান, পূর্ব বিরোধ ও রাস্তার বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রফিকুল ইসলাম মনা মেম্বার বলেন, “গ্রামে শান্তি বজায় রাখতেই আমরা তাদের সতর্ক করেছি।”অন্যদিকে অভিযুক্ত আবদুল আওয়াল বলেন, “আমি কোনো ধরনের হামলা বা হুমকির সঙ্গে জড়িত নই। কেউ আমার নাম ব্যবহার করে থাকলে সেটারও বিচার হওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রাজিব কান্তি নাথ দৈনিক সমাচারকে বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ব বিরোধ রয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত এবং এলাকা পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।
..