ব্যুরো প্রধান সিলেট : মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়ন এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধ প্রবণতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চুরি, মাদক ব্যবসা, জুয়ার আসর এবং প্রকাশ্য সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
বিশেষ করে মুন্সিবাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী অপরাধী চক্রের কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন তলানিতে।
সম্প্রতি মুন্সিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জনাব শাহরিয়ার চৌধুরী লিটনের ওপর তার নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে হামলার ঘটনা ঘটে।
চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ‘ছোট মনি’র নেতৃত্বে এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একের পর এক চুরির ঘটনায় এলাকাবাসী বিপর্যস্ত।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মুন্সিবাজার কালী প্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জনাব সত্যেন্দ্রনাথ নান্টুর দোকানে এক রহস্যময় চুরির ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসামিদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি, যা স্থানীয়দের মধ্যে প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রশ্ন তুলছে।
এছাড়া গত রমজান মাসে পতনউষার ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের প্রবাসী খায়রুল আমিনের নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে দামি মোটর চুরি এবং পাশের লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ফ্যান ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরেও মাদক ও জুয়ার আসর বসছে। লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ অবৈধ দেশীয় অস্ত্রের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি রহিমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অবাধে মাদক বিক্রি এবং জুয়ার আসর বসার অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার প্রশাসনকে অবহিত করা সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চিহ্নিত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দৈনিক সমাচার এর একটি প্রতিনিধি দল কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব ওয়াহিদুজ্জামান রাজুর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হলে তিনি দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন।
পুলিশ সুপার ওয়াহিদুজ্জামান রাজু জানান, মুন্সিবাজার ও এর আশেপাশের এলাকাগুলো যদি অপরাধীদের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে, তবে সেই জায়গাগুলোতে দ্রুত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তিনি ও তার টিম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অপরাধী যেই হোক, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, পুলিশের এই আশ্বাসের দ্রুত বাস্তবায়ন ঘটবে এবং কমলগঞ্জের প্রতিটি গ্রাম ও বাজার আবারো শান্ত ও নিরাপদ হয়ে উঠবে।
..