মো: রাকিব হাসান: আজ ২৬ মার্চ সরকারি ছুটির দিনেও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন ফুয়েল পাম্প ঘুরে দেখা যায় হাতে গোনা কয়েকটি পাম্পে পেট্রোল এবং অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে৷ যানবাহন চালকরা বলছে অধিকাংশ পাম্প ই বন্ধ। যেগুলো তে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে সেখানেও অনেক লম্বা লাইন।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা ও মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় অনেক দেশই জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট, উৎপাদন হ্রাস এবং বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে তেলের বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের বড় বড় তেল উৎপাদনকারী অঞ্চলে উত্তেজনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা দেখা দিলে এর প্রভাব দ্রুতই বৈশ্বিক বাজারে পড়ে।
বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি পেলে তা দেশের পরিবহন খাত, শিল্প উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনা বাড়ছে। বিশেষ করে পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যার প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার বাড়ালে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকটের প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা সহজ হবে।
..