২৫ মার্চ ২০২৬
পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সর্দারগছ সংলগ্ন এলাকায় ডাহুক নদীতে অবৈধভাবে দীর্ঘদিন থেকে পাথর উত্তোলন করে আসতেছে একটি প্রভাবশালী চক্র।
গত ১৮ মার্চ রাত আনুমানিক ১ টা ৩০ মিনিটে ডাহুক নদীতে ইউনিয়ন বিএনপি ও এনসিপির একজন নেতাকর্মী ড্রেজার মেশিনটি জব্দ করেন। পরবর্তীতে থানায় অবহিত করেন তারা। পুলিশ এসে ড্রেজার মেশিনটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে প্রকৃত দুইজন আসামী নাম উল্লেখ করেন উদ্ধাকারীরা।
এজাহারে প্রকৃত একজন আসামী মুস্তানের নাম উল্লেখ থাকলেও আরেকজন আসামী নাম উল্লেখ নাই। প্রকৃত অর্থে উপজেলার ওই ইউনিয়নে কালদাস পাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সচিবের ছেলে সাজেদুল ইসলাম (৪০), যে ব্যক্তি কোন দিন ড্রেজার মেশিনের সঙ্গে জড়িত ছিল না। কোন দিন ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করেননি।
ডাহুক নদীর দোরগোড়ায় যায়নি। ভূমি জরিপের সার্ভেয়ার হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার নামে পুলিশ দিল হয়রানি করার জন্য ড্রেজারের মামলা। ড্রেজারের মামলা দিয়ে থেমে থাকেনি তারা, তাকে গ্রেপ্তার করার সহযোগীতা করেছে উপজেলা বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কয়েকজন বিএনপির নেতাকর্মী।
সোমবার (২৩ মার্চ) বিকালে সাজেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেন তার বাড়ী থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিধান চন্দ্র রায়। আজ বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, সাজেদুল ইসলামের বংশধর কোনদিন ড্রেজার মেশিনের সঙ্গে জড়িত ছিল না, তাকে ফাঁসানোর জন্য এলাকার কয়েকজন বিএনপির নেতাকর্মীরা নাম দিয়েছেন। ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫৪ ধারার আমলযোগ্য জামিন অযোগ্য মামলার অভিযোগ করলেও, তদন্ত হওয়ার দরকার ছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত না করে অসহায় ব্যক্তিদের নামে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে ড্রেজারের মামলা দিয়ে।
মামলা এন্ট্রি ও গ্রেপ্তার হওয়ার পরে এলাকার মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি পুলিশের এমন কাণ্ডে এলাকাজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিধানচন্দ্র রায় তিনি বলেন, মামলা রজু হওয়ার পরে আমার ভুমিকা। মামলা রজু হওয়ার পরে মামলা আমার কাছে এসেছে। এর আগে আমার ভুমিকা নেই।
এজাহারের উল্লেখিত ৩ নং সাক্ষী মো: আলমগীর হোসেন বলেন, যখন আমরা ড্রেজারটি উদ্ধার করি। পুলিশের কাছে ২ জনের নাম উল্লেখ করি যারা প্রকৃত অর্থে ড্রেজারের সাথে জড়িত। পরবর্তীতে জানতে পারি এজাহারে ৬ জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ আছে।
২ নং সাক্ষী ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আতারুল রহমান বলেন, তিনি ড্রেজারের সাথে জড়িত না, তার নাম কে দিয়েছে তা বলতে পারবো না। প্রকৃত অর্থে সাজেদুলের নাম আক্রোশমুলক ভাবে দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় নেতাকর্মীরা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তার নামে মামলা দিয়েছেন। যারা এই মামলার স্বাক্ষী তারাই ড্রেজারের মুলহোতা।
ভুক্তভোগী সাজেদুল ইসলাম বলেন, আমার জীবনে কোন দিন ড্রেজারের সাথে জড়িত ছিলাম না। আমাকে ফাঁসানো হয়ে। হাজার হাজার মানুষ স্বাক্ষী দিবে আমি এটার সাথে জড়িত নাই।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি বলেন, আমি ছুটিতে ছিলাম ।
..