২৪ মার্চ ২০২৬
শাহিন রেজা টিটু-ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় আজ দুপুরে বিবদমান দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মসজিদের এক ঈমাম সহ ২ জন নিহত হযেছেন।
এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন শান্ত।স্থানীয় সাংসদ মো. আবদুল হান্নান জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে কঠোর নির্দেশ দেয়া হযেছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকেই দুই গ্রুপের উত্তেজনা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা, আর সেই উত্তেজনা রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী সহিংসতায়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত দুইজন—যাদের মধ্যে একজন স্থানীয় মসজিদের ইমাম বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বের বিরোধের জেরে একপক্ষে সাতটি গ্রামের মানুষ এবং অপরপক্ষে দুইটি গ্রামের বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতায় গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ইট-পাটকেল ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, তবে আহতের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষ চললেও দ্রুত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে চরম আতঙ্ক।
তবে নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিনুর ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবুও এলাকাজুড়ে বিরাজ করছে থমথমে পরিবেশ।
এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান দৈনিক সমাচারকে জানান, এই সংঘর্ষ কোনো রাজনৈতিক কারণে নয়। বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করেই এই সহিংসতার সূত্রপাত। তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিহতরা হলেন স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম মাওলানা হামিদ ও আক্তার হোসেন । তবে এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়, আর জনমনে রয়ে গেছে অজানা আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা।
..