কাতারের গ্যাস স্থাপনায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা-ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

কাতারের গ্যাস স্থাপনায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা-ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
কাতারএনার্জির তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন স্থাপনাগুলো রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি- ছবি: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কাতারের প্রধান গ্যাস স্থাপনা রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় “উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি” হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বুধবার এক বিবৃতিতে কাতার জানায়, রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিকে লক্ষ্য করে ইরানের “প্রকাশ্য আগ্রাসী হামলার” তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। হামলার ফলে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়ে স্থাপনাটিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের আগুন প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদক কাতারএনার্জি জানায়, “সব কর্মীর হিসাব নেওয়া হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।”

তবে বৃহস্পতিবার ভোরে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে কাতারএনার্জি জানায়, আরও কয়েকটি এলএনজি স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে, যার ফলে বড় ধরনের আগুন ও অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এই ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন ইরান ইসরায়েলের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

ইরানের হুমকিতে কাতারের মেসাইদ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, রাস লাফান রিফাইনারি; সৌদি আরবের স্যামরেফ রিফাইনারি ও জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স; এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হোসন গ্যাসক্ষেত্রের নাম উল্লেখ করা হয়।

পরিস্থিতির জেরে কাতার ইরানি দূতাবাসের সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করেছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।

কাতার বলেছে, এই হামলা তাদের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। একই সঙ্গে ইরানের ক্রমাগত উত্তেজনাপূর্ণ নীতির কারণে পুরো অঞ্চল সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

ম্যাক্রোঁ বলেন, বেসামরিক অবকাঠামো—বিশেষ করে জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর হামলা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণ ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

সূত্র: আলজাজিরা

..

Leave a reply

Minimum length: 20 characters ::