সঞ্জীব কুমার সাহা – গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, ‘আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে তখনকার বাস্তবতায় সেচ এবং কৃষি নির্ভর অর্থনীতিকে প্রসারিত করার এ প্রকল্প গ্রহণ করেন, এ জন্য মেন্যুয়াল খনন পদ্ধতিতে যারা কাজ করবেন তাদের একটা কর্মসংস্হান হচ্ছে। আমরা দেখতে পেলাম পিতার পথেই পুত্র আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা তারেক রহমান একইভাবে নির্দেশনা দিচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ফরমালিটির চেয়ে কাজের উপর গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করে দিতে পারি সে চিন্তাই করছি। এজন্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কোন নাম ফলক বা ফুলের শুভে”ছার ব্যবস্হা রাখা হয় নাই। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাজের উপর ডেডিকেশন রয়েছে। তিনি সকাল ৯টার আগেই তার অফিসে চলে আসেন। তিনি প্রতিদিনই সচিবালয়ের কাজ শেষ করে পরে তার নিজ কার্যালয়ে যান। তিনি বার বার আমাদের মনে করিয়ে দেন আমরা জনগণের ভোট এবং সমর্থন নিয়ে আছি। তাই কাজের মাধ্যমেই এ সমর্থনটাকে ধরে রাখতে হবে।’
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির আওতায় পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার গলাচিপা খাল ও শাখা খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্হান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। সোমবার দুপুর ১২টায় গলাচিপা পৌরসভার শান্তিবাগ স্লুইসগেট সংলগ্ন এলাকায় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল হক নুর এসব কথা বলেন।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্হিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ তারেক হাওলাদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপু সরোয়ার (প্রশাসন), পানি উন্নয়ন বোর্ড পটুয়াখালী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান, গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জিল্লুর রহমান, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা, সদস্য সচিব আলতাফ হোসেন খান, জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শিপলু খান, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহসভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির, গলাচিপা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান, সদস্য সচিব মো. জাকির হোসেন মুন্সি প্রমুখ।

“ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার এন্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট (বাপাউবো অংশ)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলায় ৮১২.১৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৫টি খাল ও তৎসংলগ্ন ৬টি শাখা খাল, সর্বমোট ৩৪.২০০ কিলোমিটার পুণঃখনন কাজ বাস্তবায়নের জন্য মার্চ, ২০২৫ এ কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে।
খালগুলো হ”েছ পক্রিয়া খাল ও ১টি শাখা খাল, ওক্কারাম খাল ও ২টি শাখা খাল, হোগলবুনিয়া খাল, বন্যাতলী খাল ও ২টি শাখা খাল এবং গলাচিপা খাল ও ১টি শাখা খাল। বর্তমানে পক্কিয়া খাল ও ১টি শাখা খাল, ওক্কারাম খাল ও ২টি শাখা খাল, হোগলবুনিয়া খাল পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে।
এছাড়া গলাচিপা খালটি গোপালদী দোন নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে গলাচিপা নদীতে পতিত হয়েছে, যার দৈর্ঘ্য ৮.৭৮৫ কিঃমিঃ এবং গলাচিপা শাখা খালটি ফসলী জমি থেকে উৎপত্তি হয়ে গলাচিপা খালে পতিত হয়েছে, যার দৈর্ঘ্য ৩.২১৫ কিলোমিটার, সর্বমোট ১২.০০ কিলোমিটার। যার চুক্তিমূল্য ২৮৫.০০ লক্ষ টাকা। খালটি গলাচিপা সদর, রতনদী-তালতলী ও ডাকুয়া ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
খালটি পুণঃখননের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিন যাবৎ খালটি খনন না করার ফলে পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়া পানি প্রবাহ না থাকায় শুষ্ক মৌসুমে খালটি প্রায় সম্পূর্ণরূপে শুকিয়ে যায়। খালটি ভরাট হওয়ার ফলে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকগণ সেচের পানি পায় না ফলে পর্যাপ্ত সেচ সুবিধার অভাবে কাঙ্খিত ফসল উৎপাদন ব্যাহত হ”েছ। পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ফলে আবাদী জমির ফসল নষ্ট হয়।
এ খালটি পুণঃখননের ফলে গলাচিপা সদর, রতনদী-তালতলী ও ডাকুয়া ইউনিয়নের প্রায় ১২৮৭.৫৮ হেক্টর এলাকার বন্যার পানি নিষ্কাশিত হবে। প্রায় ১১৫৬.২৭ হেক্টর জমির সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট এলাকার ১২৫৪০ জন জনগোষ্ঠী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সুবিধা পাবে। প্রকল্প এলাকার মৎস্য ও জলজ সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। সামগ্রিকভাবে পরিবেশের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা ধারণা করেন।
নুর বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সুদূর প্রসারী চিন্তাভাবনা বাইরে থেকে কেউ ধারণা করতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৭ শ শাড়ি ও একশ থ্রি পিচ দিয়েছেন। যদিও বিরোধী দলের কেউ কেউ এটা নিয়ে সমালোচনা করে থাকেন। কিন্তুএটা দেওয়া হয়েছে সকল সংসদ সদস্যকেই
..