মোঃ নুরুল আলম – স্টাফ রিপোর্টার :- বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনে পার্বত্য চট্টগ্রামে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ পুর্নগঠনে কারা হচ্ছেন চেয়ারম্যান এ নিয়ে চুল-ছেঁড়া বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। তবে বান্দরবান জেলায় পাহাড়ের পরিক্ষিত নেত্রী মাম্যাচিং’কে মূল্যায়নের দাবী বিএনপি’সহ পাহাড়ি-বাঙালী সর্বস্তরের মানুষের৷
দলীয় সূত্রমতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে, ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত নারী আসনে সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৭ সাল এবং ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বান্দরবান জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।
২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে মাম্যাচিং ৮৫৩ ভোটে পরাজিত হন। তখন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরী পান ১৪ হাজার ভোট পান।বিদ্রোহী প্রার্থী না হলে তাঁর প্রাপ্ত ১৪ হাজার ভোট মাম্যাচিং এর ভোটবাক্সে যুক্ত হয়ে বিএনপি নির্বাচিত হত। আর ২০১২ সাল থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির উপজাতীয় বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সম্পর্কে শ্যালক ও সম্মুন্দি ছিলো। শালা-সম্মুন্দি মিলে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম-দূর্ণীতি এবং লুটপাটের পরিষদ গড়ে তুলেছিল। সেটির পুনরাবৃত্তি দেখতে চায়না পাহাড়ি-বাঙালি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বান্দরবানবাসী। আত্মীয় করণ পূর্নবাসন বাদ দিয়ে দলের দু:সময়ের ত্যাগীদের মূল্যায়ন করার দাবী জানান বান্দরবানের জনগণ।
পার্বত্য জেলা পরিষদ স্থানীয় উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি, যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির হাতেই চেয়ারম্যানের পদটি অলংকৃত হোক। সেক্ষেত্রে দলের পরিক্ষিত সৈনিক মাম্যাচিংয়ের বিকল্প নেই। অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতায় সবার চেয়ে এগিয়ে। সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক চনুমং মারমা বলেন, পাহাড়ের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর দাবী পার্বত্য চট্টগ্রামে বিএনপির পরিক্ষিত সৈনিক হিসেবে পরিচিত মাম্যাচিং দিদি’কে চেয়ারম্যানে দেয়া হোক।
তিনিই এ পদের জন্য উপযুক্ত ও যোগ্য দাবীদার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকের নাম ছড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। আত্মীয় করণ কখনোই দলের নেতাকর্মীরা মেনে নিবেনা।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো: জাবেদ রেজা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ী সম্প্রদায়ে বিএনপির দুজন মুরব্বি রয়েছে। তাদের একজন সাচিং প্রু জেরী’কে সংসদ সদস্য করা হয়েছে, অন্যজন হলো মাম্যাচিং।
শেষ বয়সেও দলের জন্য ত্যাগ তিতিক্ষা, অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক মামলা দ্বারা নির্যাতিত মাম্যাচিং কে মূল্যায়নের সময় এখনি। সকলের দাবী অভিজ্ঞতা, যোগ্যতার ভিত্তিতে তাকে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে মূল্যায়ন করবে দল। মাম্যাচিং দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির পরিক্ষিত একজন নেত্রী, তিনি কখনোই দলের বিরুদ্ধে যায়নি। পাহাড়ী বিভিন্ন জনগোষ্ঠী এবং বাঙালিদের আস্থাশীল নেত্রী মাম্যাচিং মূল্যায়িত হবে এটিই বান্দরবান বাসীর বিশ্বাস এবং দলের কাছে দাবী।
..