গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর গলাচিপায় তিষা দেবনাথ নামের এক হিন্দু স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় এলাকায় চঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিষাকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার ইফতি হাওলাদারের (২২) বিরুদ্ধে। গত ৭ মার্চ অপহরণের এ ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় তিষা দেবনাথের বাবা শিপলু চন্দ্র দেবনাথ বাদী হয়ে ইফতি হাওলাদারকে প্রধান আসামী করে চারজনের নাম উল্লেখ করে আরো ৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে গলাচিপা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি ৮ মার্চ রবিবার এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় অপহৃত তিষা এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি বলে জানিয়েছেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা গলাচিপা থানার এসআই শ্রী সুমন চন্দ্র মজুমদার।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাড়ডাকুয়া গ্রামের শিপলু দেবনাথের মেয়ে তিষা দেবনাথ পাড় ডাকুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
তিষাকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার মো. ফারুক হাওলাদারের ছেলে ইফতি হাওলাদার বিরুদ্ধে। ইফতি তিষাকে পথে ঘাটে একা পেলে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করে আসছিল। বিভিন্ন সময় তিষাকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে তাতে রাজি না হওয়ায় অপহরণের পায়তারা করে আসছিল ইফতি।
ঘটনার দিন ৭ মার্চ শনিবার সন্ধ্যায় পাশের বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার সময় পাকা রাস্তার উপর পৌঁছামাত্র ইফতিসহ ৪-৫ জন মিলে জোরপূর্বক তিষার মুখ চেপে ধরে অপহরণ করে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে তিষার বাবা শিপলু দেবনাথ ইফতির বাবা ফারুক হাওলাদারের কাছে তৃষাকে ফেরত চায়। এসময় ইফতির বাবা ফারুক তিষাকে ফেরত দেই দিচ্ছি বলে কালক্ষেপন করেন। পরে এ ঘটনায় তিষার বাবা শিপলু দেবনাথ বাদী হয়ে গলাচিপা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ইফতিকে প্রধান আসামী করা হয়। অন্যান্য আসামীরা হলেন একই এলাকার মো. ফারুক হাওলাদার (৫৪), মো. মামুন হাওলাদার (২৬), জয় দেবনাথ (১৯)সহ অজ্ঞাত আরো ৩ জন।

অপহৃত তিষার বাবা শিপলু চন্দ্র দেবনাথ বলেন, আমার মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। আমার মেয়ে তিষাকে মুসলমান সম্প্রদায়ের ফারুক হাওলাদারের ছেলে ইফতি জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। আমার মেয়েকে ফেরত চাই।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইফতির বাবা ফারুক হাওলাদারের ০১৭২৯৭৮৫৯৪৮ মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়ায় মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রী সুমন চন্দ্র মজুমদার বলেন, মামলাটি এজাহার হওয়ার পর থেকেই আমরা তদন্ত করে অপহৃত তিষাকে উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সাথে আমরা আইন শৃঙ্খলার অন্যান্য সংস্হার কাছে সহায়তার জন্য চিঠিও দিয়েছি।
..